সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং, ৩ সেপ্টেম্বর- উন্নয়নের বার্তা, মানুষের ঢল আর স্বতঃস্ফূর্ত উন্মাদনা সঙ্গী করে পাহাড়ে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাগডোগরায় নেমে সড়কপথে সরাসরি দার্জিলিঙে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উঠেছেন বরাবরের মতোই সরকারি অতিথিনিবাস রিচমন্ড হিলে। 
মুখ্যমন্ত্রীর গোটা যাত্রাপথে ছিল তাঁকে একঝলক দেখতে মানুষের উন্মাদনা। বিমানবন্দরের বাইরে বেরোনর সময় থেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাহাড়–‌সমতলের প্রচুর মানুষ। কারও হাতে খাদা, কারও হাতে ফুল। মুখে ‘‌দিদি–দিদি’‌ ডাক।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, জিটিএ–‌র চেয়ারম্যান বিনয় তামাং। ছিল পাহাড়ি জনতাও। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পাহাড়ে এসেছেন পূর্ত ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তথ্য–সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। 
এদিন দার্জিলিঙে বিক্ষিপ্তভাবে কখনও হালকা বৃষ্টি হয়েছে, কখনও রোদ উঠেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আবহাওয়া বাধা হয়নি। দার্জিলিঙের বিজনবাড়ির বাসিন্দা অন্বেষা ছেত্রী থেকে পুলবাজারের কুশল রাই— সকাল থেকেই বসে মুখ্যমন্ত্রীকে চোখের দেখা দেখার জন্য। ক্লাস নাইনের ছাত্র কুশলের কথায়, ‘‌পাহাড়ের পড়ুয়াদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’‌ রং বুলের বাসিন্দা গোবিন্দ সোনার আবার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চান সরকার বনবস্তির বাসিন্দাদের পাট্টা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে। 
রোহিনী টোল গেট, কার্শিয়াং, সোনাদা, ঘুম— সর্বত্রই মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড়। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পাহাড়ে পৌঁছয় অন্ধকার নামার পর। তবুও ভানুভবন আর রাজভবনের সামনে অপেক্ষমান জনতা। রিচমন্ড হিলে পৌঁছোনর পথে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে স্বাগত জানায় ‘টিবেটান রিফিউজি সেন্টার’। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারকও। 
মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে সেজে উঠেছে পাহাড়। বিভিন্ন রাস্তায় বসেছে স্বাগত তোরণ, ব্যানার–‌ফ্লেক্স। সেখানে পাহাড়ে গ্রিন ফিল্ড ইউনিভার্সিটি স্থাপনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ম্যাল চত্বরে জোরকদমে চলছে মঞ্চ বাঁধার কাজ। বুধবার ম্যাল থেকেই পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের কাজের সূচনা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সঙ্গে ম্যালকে সাজিয়ে তোলার কাজের সূচনা–‌সহ নানা কর্মসূচি। 
আজ, মঙ্গলবার জিটিএ–‌‌র সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। বছরখানেক আগে বিনয় তামাংকে চেয়ারম্যান করে যে তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড গঠন করেছিল রাজ্য, তার কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে চান মুখ্যমন্ত্রী। জিটিএ নেতৃত্বের আশা, পাহাড়ের উন্নয়নে তাঁদের নতুন দিশা দেবেন তিনি। বিনয় তামাং বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ সামনে রেখেই পাহাড়ে উন্নয়নের কাজ চলবে।’‌ প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পাহাড়ের উন্নয়নে অর্থের অভাব হবে না বলে বার্তা এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে জিটিএ–র অন্দরে। বিনয় তামাং আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে দার্জিলিঙের পথে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: সৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top