অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ২০ জানুয়ারি- রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা করে মিনি সচিবালয় তৈরি করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি। ৬ বছর পর ঠিক একই দিনে শিলিগুড়ি লাগোয়া শিবমন্দিরের আঠারোখাই পঞ্চায়েত ময়দানে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করে শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবের জন্য ‘‌উত্তরীয়া’ ভবনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর উত্তরের ৮ জেলার‌ ৯ জনকে বঙ্গরত্ন সম্মান প্রদান করে জানিয়ে দিলেন এতদিনের অবহেলিত উত্তরবঙ্গে এখন ঢেলে উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। চা–‌‌বাগান থেকে পাহাড়, সর্বত্র কাজের উদাহরণ তুলে ধরে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ‘‌বাংলার মাটি সোনার মাটি। এই মাটিতে হামলা, সন্ত্রাস করতে দেব না। এই মাটিতে লাঞ্ছনা করতে দেব না।’‌  
উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জনজাতির মানুষের বাস। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের মানুষের মধ্যে মহামিলনের বাতাবরণ তৈরি করতে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই উৎসব একই দিনে উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলায় একসঙ্গে চলে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উৎসবের সূচনা করে তাই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, ‘‌নিজ ভূমিতে, নিজ জায়গায়, নিজ সংস্কৃতিতে সকলকে ভালবেসে থাকতে হবে।’‌ বলেন, ‘‌আমি উত্তরবঙ্গে বারে বারে আসি। কারণ, উত্তরবঙ্গকে আমি খুবই ভালবাসি। দক্ষিণবঙ্গ যেমন আমার স্বজন, তেমনি উত্তরবঙ্গ আমার আপন।’‌ 
উত্তরের রত্নদের সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারে কোচবিহার থেকে জ্যোতির্ময় রায়, আলিপুরদুয়ার থেকে রাজেন্দ্রনাথ দাস, জলপাইগুড়ি থেকে ড.‌ শুভম মজুমদার, শিলিগুড়ি থেকে ভারতী ঘোষ, দার্জিলিং থেকে গণেশ বাহাদুর গিরি, কালিম্পং থেকে হেমলতা প্রধান, উত্তর দিনাজপুর থেকে ড.‌ মমতা কুণ্ডু, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বিশ্বনাথ লাহা এবং মালদা থেকে ড.‌ দ্বিজেন্দ্র সরকার বঙ্গরত্ন সম্মান পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্মারক ও মানপত্র তুলে দেন। এরপর এই মঞ্চ থেকে শিলিগুড়ির সাংবাদিকদের নতুন ভবন ‘‌উত্তরীয়া’‌ উদ্বোধন করার সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন সাংবাদিকদের আবাসনের জন্যও জমির কাগজপত্র তুলে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গকে অবহেলা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এসে ঢেলে কাজ করছি। প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ভোরের আলো থেকে পাহাড়ের লামাহাটা পর্যটন কেন্দ্র, আফ্রিকান ধাঁচের সাফারি পার্ক থেকে বিমানবন্দর, জয়ী সেতু থেকে সার্কিট বেঞ্চ—‌ সমস্ত করে দেওয়া হয়েছে।’‌ তিনি বলেন, এই উৎসবও মিলনের জন্য ভাগাভাগি থেকে দূরে থাকতে হবে। বলেন, তিনি ভোটের পাহারাদার নন, ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টার জন্য পাহারাদার। এরপর দেশের ভবিষ্যতের জন্য পড়ুয়াদের তৈরি হওয়ার বার্তা দিয়ে যান। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, ইন্দ্রনীল সেন। ছিলেন বিনয় তামাং, অনীত থাপা, সুরেন্দ্র গুপ্ত–‌সহ অনেকে। 

উত্তরবঙ্গের ৯ বঙ্গরত্ন। বাঁদিক থেকে রয়েছেন হেমলতা প্রধান, বিশ্বনাথ লাহা, গণেশ বাহাদুর গিরি, জ্যোতির্ময় রায়, রাজেন্দ্রনাথ দাস, ড.‌ দ্বিজেন্দ্র সরকার, ড.‌ শুভম মজুমদার, ভারতী ঘোষ, ড.‌ মমতা কুণ্ডু। সোমবার, শিলিগুড়িতে। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top