আজকালের প্রতিবেদন, কোচবিহার, ১৮ নভেম্বর- দু’‌দিন আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কোচবিহারে নিরাপদ না ভেবে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতায়। মন্ত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন কোচবিহারের দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ। সোমবার রাজার শহরে এসে মন্ত্রীর সম্পূর্ণ সুস্থতার খবর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে জেলার অন্যতম প্রধান নেতার সুস্থতার খবর পেতেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত তৃণমূলের কর্মিসভায় উপস্থিত সমস্ত কর্মী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। 
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই জানালেন, ‘পরশু রবি অসুস্থ হয়। তারপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি আমরা। গতকাল এখান থেকে ডাক্তারের একটা বোর্ড গঠন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলকাতায়। দমদম বিমানবন্দর থেকে গ্রিন চ্যানেল করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পিজি হাসপাতালে। সেখানে তার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছে। আর্টারি ব্লক হয়ে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর অরূপের (‌মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস)‌ সঙ্গে রবি কথা বলেছে। এখন ভাল আছে। সম্পূর্ণ স্টেবল আছে।’
মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এখন এসএসকেএমের কার্ডিওলজি বিভাগের আইসিসিইউ–তে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতালের সুপার ডাঃ রঘুনাথ মিশ্র জানান, মন্ত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল। হার্টের মূল যে ধমনীতে ব্লকেজ ছিল, সেখানে স্টেন্ট বসানো হয়েছে।  ‌ 
শুক্রবার গভীর রাতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী যোগাযোগ রাখছিলেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে। কলকাতায় সবরকম ব্যবস্থাও করে রেখেছিলেন। ওইদিন কলকাতায় না গেলে যে কেমন বিপদ হত সেটাও এদিন তাঁর কথায় বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মঞ্চে। রবীন্দ্রনাথ যে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন সেটা অকপটে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা ব্যানার্জি যখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী, তখন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সংগঠনের কোচবিহার জেলার সভাপতি। এদিন কলকাতা থেকে রবীন্দ্রনাথের সব খবর নিয়ে তারপর মুখ্যমন্ত্রী উড়ানে চেপে বাগডোগরায় নামেন।‌‌

 

 

জনপ্রিয়

Back To Top