অলক সরকার ও দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার, ১৮ নভেম্বর- কোচবিহারে তৃণমূলের কর্মিসভায় ভাষণ দিতে এসে রীতিমতো ‘‌রাফ অ্যান্ড টাফ’ ভাষায় নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে গেলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। দলাদলি নিয়ে তিনি এদিন প্রচণ্ড ক্ষোভ উগরে দেন কর্মিসভার মঞ্চে। প্রকাশ্যে শাসনও করেন। সর্বোপরি কর্মীদের দলের সম্পদ আখ্যা দিয়ে তাঁদেরকেই মূল ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়ে যান। এবং বার্তা দেন, তৃণমূলের বড় নেতা বলে কেউ নেই। তৃণমূলের কোনও গ্রুপ‌ নেই। একটাই গ্রুপ, একটাই নেতা, সেটা হল জোড়াফুল। ‌
তৃণমূল সরকার গঠনের মাত্র ৮ বছরের মধ্যে বাংলা তথা কোচবিহারে যে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ টাউন ঘোষণা, ৬৬ বছরের ছিটমহলের সমস্যা সমাধান ইত্যাদি। কিন্তু তারপরও বিগত লোকসভায় কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের লোকসভা আসনগুলি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি অনেকটাই আহত বোধ করেছেন। সেটা কর্মিসভায় জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনেক মানুষ যে বিজেপি–র অপপ্রচার, পেশিবল ও অর্থবলের কাছে মাথা নত করেছেন সেটাও জানান। কিন্তু এই ক্ষেত্রে দলের নেতাদের গাফিলতির বিষয়টিও উড়িয়ে দেননি। এখানে দলাদলির আভাসও যে তঁার কাছে গেছে, সেটারও আভাস দেন। এবং সেই প্রসঙ্গ আসতেই তৃণমূল নেত্রী ক্ষোভ উগরে দেন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। 
কড়া ভাষায় তিনি জানান, ‌তৃণমূল দলের কোনও গ্রুপ নেই। একটাই গ্রুপ, তার নাম জোড়াফুল, তেরঙ্গা ঝান্ডা। তৃণমূলে কোনও নেতাই বড় নয়, কর্মীরাই বড়। তৃণমূল দল কর্মীদের ওপর নির্ভর করেই চলবে। এজন্যই দলটি তৈরি করা হয়েছিল। তাই এই দল নিয়ে গর্ববোধ করবেন। পরে তিনি কর্মীদের একপ্রকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কোনও নেতা গ্রুপ করবেন না। আপনারাই দলের সম্পদ। আপনাদেরই দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপি–‌কে রুখতে যা যা করার করবেন। আর যারা মিরজাফরের মতো কাজ করবে তাদের দল থেকে বের করে দিন। যে কোনও মূল্যে তৃণমূলকে রক্ষা করতে হবে, নইলে বাংলার সর্বনাশ হয়ে যাবে।’‌ ‌পাশাপাশি নেত্রী জেলার সমস্ত নেতাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘‌আমি এলাকার সব খবর রাখি। হলদিবাড়ি, দিনহাটা, নিশিগঞ্জে কারা কাজ করে এবং কারা দুষ্টুমি করে সব খবর রাখি। কিন্তু কাউকে অশ্রদ্ধা না করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করুন।’‌ তিনি পরামর্শ দেন, বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার, শিক্ষক থেকে কৃষক সমস্ত মানুষের কাছে যেতে হবে। তঁাদের সম্মান দিয়ে কাছে আনতে হবে। চায়ের দোকানে, চাষির বাড়ির খাটিয়ায় বসে বা মাটির ঘরে গিয়ে মানুষের সমস্যা জানার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে চ্যালেঞ্জ করে বলা যাবে তৃণমূলই জিতবে। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতাদের শাসন করতেও ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিংহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পুরসভায় আলো জ্বালানো নিয়ে ভূষণ–‌রবি ঝগড়া করবে, ‌ তোমরা ভাষণ দেবে, আর পার্টি বিষ গিলবে সেটা চলতে পারে না। মন্ত্রীর (‌রবি ঘোষ)‌ সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভালভাবে পুরসভার কাজ করো।’‌‌‌‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে রাসচক্র ঘোরাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top