অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২০ আগস্ট- ‘‌এখনো বনের গান, বন্ধু হয়নি তো অবসান/‌তবু এখনি যাবে কি চলি/‌ও মোর করুণ বল্লিকা/‌ও তোর শ্রান্ত মল্লিকা/‌ঝরো–‌ঝরো হল/‌এই বেলা তোর শেষ কথা দিস বলি।’‌ স্মরণসভায় কোনও আবহ সঙ্গীত ছিল না ঠিকই, কিন্তু বারে বারেই যেন রবি ঠাকুরের গানের এই কলিগুলো ভেসে আসছিল। আসবে নাই বা কেন, মারা গিয়েও যে আরও চারজন মানুষকে বেঁচে থাকার রসদটুকু দিয়ে গেছে বছর পনেরোর মল্লিকা। 
সোমবার তার স্কুলেই স্মরণসভায় অশ্রুসজল চোখে সবাই শ্রদ্ধা জানায় সর্বদা প্রাণবন্ত ফুটফুটে এই মেয়েটিকে। মল্লিকার সহপাঠী থেকে শুরু করে, তার শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা সকলেই অঝোরে কেঁদে ফেললেন। মল্লিকার জন্য একদিকে যেমন গর্বিত সবাই, তেমনি মর্মাহতও। স্কুলের প্রধানশিক্ষক রমেন্দ্র মজুমদার তো বলেই ফেললেন, ‘‌মল্লিকা আমাদের আরও শিক্ষিত করে গেল। ওর এই অবদান যাতে ভবিষ্যতে সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয় সেই চেষ্টাই আমরা করব।’‌
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে রেলওয়ে কলোনি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী সূর্য সেন কলোনির বাসিন্দা মল্লিকা মজুমদার। গত ৩০ জুলাই স্কুলেই মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। তারপর থেকেই কেমন ধীর স্থির হয়ে যায়। এরপর তাকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হয়ে কলকাতার এসএসকেএম–‌‌এ ভর্তি করা হয়। ১ আগস্ট থেকে কলকাতার এসএসকেএম–‌এ ভর্তি ছিল মল্লিকা। ১৪ আগস্ট তার ‘‌ব্রেন ডেথ’‌ হয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর ১৬ আগস্ট তার অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। শনিবার গভীর রাতে সূর্য সেন কলোনিতে এসে পৌঁছয় মল্লিকার দেহ। 

এনজেপি রেলওয়ে কলোনি হাই স্কুলে মল্লিকার স্মরণসভা। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top