অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি: ‘‌মেয়ে চলে গেছে তো কী হয়েছে, মেয়ে আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেছে। আমরা এতদিনেও যা করতে পারিনি, ও এইটুকু বয়সে করে দেখিয়েছে।’‌ চোখে জল নিয়ে অনর্গল এ কথা বলে চলেছেন মল্লিকার বাবা মানিক মজুমদার। পাশের ঘরেই অঝোরে কেঁদে চলেছেন মা সুলতাদেবী। বাড়ির একমাত্র প্রাণবন্ত, সদা হাস্যময় মেয়ে আর নেই। মল্লিকা হয়তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার স্মৃতি সবসময় বিরাজ করবে। 
শিলিগুড়ি–‌সহ গোটা রাজ্যের কাছে মল্লিকা এখন দৃষ্টান্ত। সুদূর কলকাতায় চারজনের মধ্যে বেঁচে রয়েছে মল্লিকা। তার অকালমৃত্যু যেমন বেদনার, তেমনই অঙ্গদানের কথা গর্বিত করেছে সবাইকে। মেয়ের দেখানো পথেই এবার নিজেরাও হাঁটতে চান। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মল্লিকার বাবা, মা, ঠাকুমা, দাদু, পিসি–‌রা। 
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে রেলওয়ে কলোনি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মল্লিকা ১ আগস্ট থেকে কলকাতায় এসএসকেএম–‌‌এ ভর্তি ছিল। ১৪ আগস্ট তার ‘‌ব্রেন ডেথ’‌ হয়। পরিবারকে অঙ্গদানে রাজি করানো সহজ ছিল না চিকিৎসকদের কাছে। বোঝানো হয় অঙ্গ–‌প্রত্যঙ্গ অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বেঁচে থাকবে সে। রাজি হয়ে যান মল্লিকার বাবা–‌মা। এরপরই মল্লিকার লিভার, কিডনি, চোখ, ত্বক ও হৃদয় প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। নাতনির দেহদানে খুশি মল্লিকার ঠাকুমাও। বললেন, ‘‌নাতনি আর নেই। কিন্তু, চোখ, লিভার ও কিডনি দিয়ে আরও চারটে জীবন বাঁচিয়েছে। ও আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেল।’‌ মল্লিকার বাবা বললেন, ‘‌মেয়ে যে কাজটা করে দিয়ে গেল, আমরাও তেমনটা চাই। সবাইকে বলছি, কিছু করতে না পারো, অসহায় মানুষকে পারলে শরীরটা দিয়ে যেও। আমার মেয়ে তাই করেছে।’‌
মল্লিকার দেহ বাড়ি ফিরতেই সেখানে যান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। রবিবার গিয়েছিলেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

জনপ্রিয়

Back To Top