অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: নোটবন্দির তিন বছর পরেও এতটুকু কমেনি জাল নোটের কারবার। মালদা জেলা পুলিশের তথ্য এমনটাই বলছে। অথচ নোট–বাতিলের জেরে জাল নোটের কারবার বন্ধ হবে এমনটাই স্বপ্ন দেখিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
মালদা জেলা পুলিশের ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত (দশ মাসে) মালদার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার জাল নোট। ২৬টি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৪ জন জাল নোট পাচারকারী। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর নোটবন্দির ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। আর সেই ঘোষণার আড়াই মাসের মধ্যেই মালদার কালিয়াচক থানা এলাকায় প্রথম নতুন দু’‌হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই ফের নতুন করে জাল নোট পাচারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মালদা জেলা পুলিশের ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মোট ৫২ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। ৩৫টি ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালে মোট ৫৭ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়। ৪৩টি ঘটনায় ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত ২০০০, ৫০০, ২০০, ৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচক এবং বৈষ্ণবনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চরিঅনন্তপুর, মহব্বতপুর, শ্মশানি, সুলতানগঞ্জ, মোজামপুর, শোভাপুর, পারদেওনাপুর–সহ একাধিক এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট পাচারকারীরা। মূলত ওপার থেকেই এই জাল নোটগুলি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষীবাহিনী জাল নোট কারবারিদের ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। এর জেরে কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে মালদার বণিক মহল। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, ‘‌যে উদ্দেশ্য নিয়ে নোটবন্দি করেছিল মোদি সরকার সেটা সফল হয়নি। বিগত তিন বছরের মধ্যে কোনও জায়গা থেকে কোনওরকম কালো টাকা উদ্ধার হয়নি। জাল নোটের কারবার বন্ধ হয়নি। বরং ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক নীহার ঘোষ বলেন, ‘‌মোদি সরকার মুখে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু নোটবন্দি করে গত তিন বছরে সাধারণ মানুষের জন্য কোনও উপকার করতে পারেনি। মানুষ হয়রানির মুখে পড়েছে। কিন্তু যাদের কাছে কালো টাকা ছিল, তা থেকেই গেছে। আর জাল নোট কারবার মোদি সরকার বন্ধ করতে পারেনি।’‌ মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, ‘ জাল নোটের কারবার ‌পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তা বলা যাবে না। ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।’

জনপ্রিয়

Back To Top