আজকালের প্রতিবেদন- এবারের সিবিএসই–র দশম শ্রেণির পরীক্ষায় নজরকাড়া ফল রাজ্যের পড়ুয়াদের। সর্বভারতীয় মেধা–তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালদার ঊষা মার্টিন স্কুলের ছাত্রী সুমাইতা লাইসা। ৫০০–র মধ্যে সুমাইতা পেয়েছে ৪৯৭। রাজ্যভিত্তিক যে মেধা–তালিকা প্রকাশ করেছে সিবিএসই বোর্ড, তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধু মালদা নয়, কলকাতা শহরের পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও বেশ কয়েকজন উঠে এসেছে সেই তালিকায়। শিক্ষা শিবিরের একাংশের মতে, এত ভাল ফল সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এদিন টুইট করে সফল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‌তোমাদের ভবিষ্যৎ শুভ হোক।’‌ 
৯৯.‌৪ শতাংশ পেয়ে সারা দেশে তৃতীয় এবং রাজ্যে প্রথম হয়েছে সুমাইতা। ৪৯৬ পেয়ে সারা দেশে চতুর্থ এবং রাজ্যে দ্বিতীয় হয়েছে ৪ জন। এরা হল— আসানসোলের ডি এ ভি পাবলিক স্কুলের ইশিকা ব্যানার্জি, বার্নপুর রিভারসাইড স্কুলের রিচা গুপ্তা, সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের সূচনা হালদার এবং ডানলপের খালসা মডেল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের সৌম্যদীপ দাস। ৪৯৫ পেয়ে দেশে পঞ্চম এবং রাজ্যে তৃতীয় হয়েছ ৫ জন। এরা হল—  আসানসোলের ডি এ ভি পাবলিক স্কুলের অনির্বাণ ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির জ্যোতির্ময়ী পাবলিক স্কুলের সোহিনী দাস, সাউথ পয়েন্টের রৌণক রায় ও শ্রেয়সী হোমচৌধুরি এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় আইআইটি খড়্গপুরের মানুশ্রী হাসা গঙ্গাবংশম। 
সোমবার প্রকাশিত হয়েছে সিবিএসই দশম শ্রেণির ফল। দ্বাদশের মতোই সর্বোচ্চ নম্বর উঠেছে ৫০০–তে ৪৯৯। ৯৯.‌৮ শতাংশ অর্থাৎ ৪৯৯ পেয়ে প্রথম হয়েছে ১৩ জন পড়ুয়া। ৪৯৮ পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২৫ জন। ৪৯৭ পেয়ে তৃতীয় হয়েছে ৫৯ জন ছাত্রছাত্রী। প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে মোট ৯৭ জন। দশমের পরীক্ষাতেও পাশের হারে ছাত্রদের ছাপিয়ে গেছে ছাত্রীরা। ছাত্রীদের পাশের হার যেখানে ৯২.‌৪৫ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাশের হার ৯০.‌১৪ শতাংশ। গত বছরের থেকে সার্বিক পাশের হার ৫.‌০৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯১.‌১০ শতাংশ। 
দেশের মধ্যে তৃতীয় হওয়ার খবর প্রথমে বিশ্বাসই করতে চায়নি সুমাইতা। পরে স্কুলে গিয়ে নিশ্চিত হয়। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই এই স্কুলে পড়ছে সে। প্রতি ক্লাসেই প্রথম হয়ে এসেছে। বাবা সহিদুল ইসলাম হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। মা কোহিনুর ইসলাম গৃহবধূ। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে সুমাইতার। আপাতত আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য পরীক্ষা দিয়েছে। সূচনাও চায় ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে। বাবা দীপক হালদার পানিহাটি হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার। মা সুদীপ্তা মিশ্র মানিকতলা ইএসআইয়ের নার্স। রাজ্যের মেধা–তালিকায় থাকা আরেক ছাত্র সৌম্যদীপ চায় ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে। তার বক্তব্য, ‘‌ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব। তারপর শিক্ষকতা করব। আর যদি ইঞ্জিনিয়ার হতে না পারি তাহলে অঙ্ক বা পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়ে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেব।’‌ রৌণকের ইচ্ছা ভবিষ্যতে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়ার। শ্রেয়সী বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে শুরু করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু ভেবে উঠতে পারেনি।
এরা ছাড়াও সল্টলেকের ভারতীয় বিদ্যাভবন, দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্ক, সল্টলেক শিক্ষানিকেতন, বিড়লা হাই, এপিজে, অশোক হল–সহ একাধিক স্কুলের সার্বিক ফলও ভাল হয়েছে। ভারতীয় বিদ্যাভবনের অগ্নিভ ঘোষ, আর্য সেন, সুপ্রীতি পোদ্দার ৯৮.‌৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। শুভায়ন রায়চৌধুরি পেয়েছে ৯৮.‌২ শতাংশ। দিল্লি পাবলিক 
স্কুল রুবি পার্কের মেঘনা আবেদিন ও শিনজিৎ ঘোষ পেয়েছে ৯৮.‌৬ শতাংশ। বিগ্নেশ পাণিগ্রাহী পেয়েছে ৯৮.‌৪ এবং সুতীর্থ ঘোষ পেয়েছে ৯৮.‌২ শতাংশ। ভারতীয় বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ সুজাতা ঘোষ জানিয়েছেন, ২৩৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৪৮ জন ৯৫ শতাংশের ওপর এবং ১১৩ জন ৯০ শতাংশের ওপর নম্বর পেয়েছে।

সুমাইতাকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন মা কোহিনুর ইসলাম। ছবি: পঙ্কজ সরকার

জনপ্রিয়

Back To Top