পঙ্কজ সরকার, মালদা:‌ কুকুরের হামলায় এক শিশুর চোয়ালের একাংশ খুবলে উঠে আসে। অন্যজনের ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়। মালদা মেডিক্যালের চিকিৎসকদের তৎপরতায় সুস্থ হয়ে উঠল দু’‌জনেই। বিরল অস্ত্রোপচারে আবার সাফল্য পেল মালদা মেডিক্যাল কলেজ। বিশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষত স্থান পুননির্মাণ করা হয়। দু’‌জনেই আপাতত সুস্থ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তারা এরপর খেতে পারবে।
বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা গ্রাম পঞ্চায়েতে পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে। নিজেদের বাগানে খেলছিল বছর দুয়েকের আনিকুল শেখ। বাবা পেশায় মজুর। জৈনপুরে তাদের বাড়ি। খেলার সময় তার ওপর একটি কুকুর হামলা চালায়। তার চোয়ালের একাংশ খুবলে তুলে নেয়। মুখে বেশ কয়েক জায়গায় আঁচড়ের দাগও পড়ে যায়। ছেলেটির আর্তনাদে ছুটে আসেন পরিবারের লোকেরা। কুকুরটি তখন পালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সামিমকে উদ্ধার করা হয়। এরপর বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে স্থানান্তরিত করা হয় মালদা মেডিক্যালে। 
অন্যদিকে ঘন্টাখানেকের ব্যবধানে চামাহাটে ঘটে আরেকটি ঘটনা। রফিকুল ইসলামের মেয়ে মেহেনাজ পারভিন। বছর পাঁচেকের মেহেনাজ বাড়ির পাশেই খেলছিল। ওই সময় কুকুরে হামলা চালায়। তাকে মাটিতে ফেলে গায়ে আঁচড় দিতে থাকে। চিৎকারে পরিবারের লোকেরা ছুটে এলে কুকুরটি পালায়। তার ফুসফুসে ফুটো হয়ে যায়। একই ভাবে তাকে বেদরাবাদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্থানান্তরিত করা হয় মালদা মেডিক্যালে। প্রথমে সামিমকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। সার্জারি বিশেষজ্ঞ পার্থপ্রতিম মন্ডলের নেতৃত্ব ৩ জনের একটি দল অস্ত্রোপচারের কাজে নামেন। ঘন্টাখানেক বাদে এসে ঢোকে মেহেনাজ। তাকেও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
পার্থবাবু বলেন,‘‌ওরা সঠিক সময়ে এসেছে। তাই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হল। সামিমের ক্ষেত্রে শরীরের অন্য স্থান থেকে চামড়া তুলে এনে ক্ষত স্থানের জায়গায় পুনর্নিমাণ করা হয়েছে। মেহেনাজের ফুটোটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। দুটিই ঝুঁকির অস্ত্রোপচার। এখন ওরা খেতে পারবে।’‌ সামিমের বাবা আনিকুল শেখ জানান, ‘‌যেভাবে চিকিৎসকেরা এগিয়ে এলেন, তাতে আমার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেলাম। ছেলের মুখ বিকৃত হয়ে পড়েছিল। ভাবতেই পারছি না যে সেখানে ওই ভাবে পুনর্নিমাণ করা সম্ভব হয়েছে। ‌চিকিৎসকদের ধন্যবাদ।’‌  একই কথা বলেন মেহেনাজের বাবা রফিকুল ইসলামও।

জনপ্রিয়

Back To Top