অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ৩ জুন- মালদার বিভিন্ন আড়তে প্যাকেটজাত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন আম। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ আম ভিনরাজ্যে রপ্তানি করা হবে তা নিয়ে সমস্যায় চাষিরা। কারণ পর্যাপ্ত সংখ্যায় বড় যানবাহনের অমিল। পাশাপাশি বাইরের রাজ্যের পাইকাররাও লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে মালদায় আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যার ফলে বাইরে আম রপ্তানি করা নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে আমচাষি থেকে ব্যবসায়ীদের।
জেলার বিভিন্ন আমবাগানে আম পাড়ার কাজ শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে চলছে প্যাকিংয়ের কাজ। কিন্তু মালদার আম রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এবং ভিনরাজ্যে কী করে রপ্তানি করা যাবে তার কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কারণ, ভিনরাজ্যে রপ্তানি করতে গেলে বড় গাড়ির প্রয়োজন‌। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে সেই ধরনের গাড়ি একেবারেই নেই বলে অভিযোগ। যদিও উদ্যানপালন দপ্তরের উপ–অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘‌ঝড়বৃষ্টির পরেও মালদা জেলায় এ বছর আমের ফলন ভাল হয়েছে। তবে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার প্রাথমিক রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আম রপ্তানির ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।’‌
উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মালদা জেলায় ৩১ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আম চাষ হয়ে থাকে। জুন মাসের শুরুতেই বিভিন্ন বাগানে শুরু হয় হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ, গোপালভোগ, জিলাপিগারা, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গুটি–সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাড়ার কাজ। ইতিমধ্যে বাগানগুলোতে অস্থায়ী আড়ত তৈরি করে আমের প্যাকিংয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে আমচাষিরা। প্রতি ক্রেটে ২২ কেজি করে আম মজুত করা হয়। এরপর সেটি বিশেষ পদ্ধতিতে ভাল করে প্যাকেটজাত করা হয়। আর সেইসব প্যাকেটজাত আম রপ্তানি হয়ে থাকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম–সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। এ ছাড়াও কলকাতা থেকে দার্জিলিং— সমস্ত জেলাতেই মালদার আম রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু এই অবস্থায় আম রপ্তানির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বড় ধরনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না বলেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। 
মালদা ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অশোককুমার দাস বলেন, ‘‌লকডাউন নিয়ে একটা সমস্যা ছিল আমচাষিদের। তার ওপর আমফান ঝড়ের প্রভাবে বিপুল পরিমাণ আমবাগানে ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে পড়েছে বহু বাগানের আম। সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও বাজারে আম নামানো যায়নি। আড়তে আম পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বাইরের রাজ্যগুলিতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে আম রপ্তানি হয়। কিন্তু লকডউনের মধ্যে পাইকার থেকে শুরু করে বিক্রেতাদের পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে বাজার ধরতে চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে।’‌ মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা মালদা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‌যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাইরের রাজ্যে এবং জেলাতে কীভাবে আম রপ্তানি করা হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।’‌ জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, ‘‌এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পুরাতন মালদার সাহাপুরের আড়তে প্যাকেটজাত অবস্থায় পড়ে  রয়েছে আম। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top