পঙ্কজ সরকার, মালদা, ২৩ জুলাই- ‘‌রুপোলি শস্য’‌ বলা হয় ইলিশ মাছকে। আর গঙ্গার ইলিশের কদর তো আরও বেশি। অনেকের কাছেই আবার  আবার ইলিশ শুধু গঙ্গার নয়, হতে হবে ফরাক্কার। ফরাক্কার ইলিশের স্বাদই যেন অন্যরকম। সামান্য সুগন্ধেই পাতের ভাত নিমেষের মধ্যে হাওয়া। এই বর্ষার মরশুমেই এমন ইলিশ পাওয়া যায়। অন্য সময় পাওয়া গেলেও দাম হয়ে যায় আকাশছোঁয়া। 
চলতি মরশুমে খাতায় কলমে বর্ষা ঢুকলেও সেই অর্থে দেখা নেই ফরাক্কার ইলিশের। দু’‌একটি মিললেও চড়া দামে জেলাবাসীর হাতে ছ্যাঁকা খাওয়ার জোগাড়। অন্যদিকে এই ইলিশের ওপর দাঁড়িয়ে যাঁদের সংসার, সেই মৎস্যজীবীদেরও  মাথায় হাত। একদিকে বৃষ্টির দেখা নেই। গঙ্গার জলও সেই অর্থে বাড়েনি। অপেক্ষা ছাড়া কোনও উপায় নেই তাঁদের। আকাশে বাতাসে একটিই প্রার্থনা, ‘‌আল্লা মেঘ দে, পানি দে’‌।
মুর্শিদাবাদ ও মালদার বুক চিরে বয়ে গেছে পুণ্যতোয়া গঙ্গা। দুই জেলা-‌সহ সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ বাংলার যোগাযোগ রক্ষা করেছে ফরাক্কা সেতুটি। আর এই সেতু লাগোয়া পূর্বদিক বরাবর চলে গেছে মালদার বৈষ্ণবনগর থানাটি। গঙ্গার পাড়ঘেঁষা গ্রামগুলি মূলত মৎসজীবীদের গ্রাম বলে পরিচিত। মাছের ওপর দাঁড়িয়েই তাঁদের সংসার। ফরাক্কা টাউনশিপ মোড় থেকে খেজুরিয়া পাড়া, হালদার পাড়া, চকবাহাদুরপুর, চরসুজাপুর, বিননগর, পারলালপুর, পারদেওনাপুর, পারঅনুপনগর-‌সহ অন্যান্য গ্রামের মানুষের মাছ ধরাই প্রধান জীবিকা। এইসব এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষই মৎস্যজীবী। যেমন ভাঙাপাড়ায় প্রায় ৮০০ পুরুষই ধীবরের কাজে যু্ক্ত। চরসুজাপুরের প্রায় এক হাজার মৎস্যজীবী মাছ ধরার কাজে জড়িয়ে। জেলেরা মূলত বর্ষার সময়ই যা রোজগার করে থাকেন। আর বর্ষা মানেই ফরাক্কার ইলিশ। অন্যান্য বছর একেকজন দিনে কম করেও ৪-‌৫ কিলো ইলিশ ধরে থাকেন। এবার সেখানে নেই বললেই চলে। দু দিনে হয়ত একটি ইলিশ জালে উঠছে। তাও ৫০০ গ্রামের নিচে। 
মৎস্যজীবীদের ডিঙি থেকে নদীতেই নৌকা নিয়ে মাছ কেনার জন্য রয়েছেন পাইকারররা। ২৪ ঘন্টাই তাঁরা থাকছেন গঙ্গাবক্ষে। এমনই পাইকার কৃষ্ণ হালদার, মনোজ হালদার, সুজন হালদাররা জানান,‌ অন্যান্য বছর এই সময় ২০-‌২৫ কুইন্টাল ইলিশ পাওয়া যায়। কিন্তু এবার দিনে ৫ কেজি মাছও জুটছে না। খুচরো বাজারে যাও বা ইলিশ চোখে পড়ছে, দাম চড়া। ৫০০ গ্রামের নিচে ফরাক্কার ইলিশের দাম ৭০০ টাকা কেজি। ৭০০ গ্রামের নিচে দাম পড়ছে হাজার থেকে ১২০০ টাকা। ১ কিলোর কাছাকাছি হলে তা ১৫০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার ১ কিলোর ওপরে হলে ২০০০ টাকা দাম। বাজারে গিয়ে দাম শুনেই ফেরত আসা ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না ক্রেতাদের। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতা থেকে পাইকার–‌মৎসজীবী সকলেই চাইছেন জঁাকিয়ে বৃষ্টি নামুক। জাল ভরে উঠুক ‘‌রুপোলি শস্য’‌।

বাজারে খুবই অল্প ইলিশ। দাম আকাশছোঁয়া। তাই ক্রেতার দেখা নেই। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top