অভিজিৎ চৌধুরি,মালদা: মালদা জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরিকে। বুধবার ইংরেজবাজার পুরসভায় তৃণমূল চেয়ারম্যান নীহার ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন তৃণমূলেরই ১৫ কাউন্সিলর। এঁরা সকলেই কৃষ্ণেন্দু চৌধুরির অনুগামী বলে মনে করা হচ্ছে। সেই অনাস্থা নোটিসে সই রয়েছে কৃষ্ণেন্দুরও। এই ঘটনায় ঝড় ওঠে তৃণমূলের অন্দরে। এর জেরেই কৃষ্ণেন্দুকে সরিয়ে দেওয়া হল বলে জল্পনা। যদিও কৃষ্ণেন্দুর দাবি, বুধবার তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছিলেন। 
মালদার জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‌জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরিকে সরানোর কথা পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’‌ দীর্ঘদিন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি। এমনকী, রাজ্যের মন্ত্রী থাকার সময়েও তিনিই চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান। তাঁকে হারিয়ে বিধায়ক হন নীহার ঘোষ। পরে নীহার তৃণমূলে যোগ দেন। ইংরেজবাজার পুরসভাতেও নীহারকেই চেয়ারম্যান করা হয়। দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি কৃষ্ণেন্দু। মাঝে মাঝেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, তিনিই কাউন্সিলরদের ইন্ধন দিয়েছেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে। বুধবার ১৫ জন কাউন্সিলর অনাস্থা নোটিস জমা দেন মহকুমাশাসকের কাছে। দলের সব কাউন্সিলরকে বৈঠকে ডেকেছেন জেলা সভানেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর। 
 অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার তৃণমূলেরই আরও ২ কাউন্সিলর সিআইসি (চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল) পদ থেকে ইস্তফা দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সাংবাদিক বৈঠক করে ২৭ নম্বর ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ ঘোষ ও শুভদীপ সান্যাল সিআইসি পদ থেকে তাঁদের ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। প্রসেনজিৎ ছিলেন জল বিভাগের দায়িত্বে, শুভদীপ ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরির দায়িত্বে। দু‌জনেই জানান, ‘‌চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে যেভাবে উন্নয়নমূলক কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। কয়েক মাস ধরেই চেয়ারম্যানের মধ্যে অদ্ভুত একটা পরিবর্তন এসেছে। দলীয় কাউন্সিলরদের কথা শুনছেন না। সাধারণ মানুষের পাশে থাকছেন না। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জালের স্তূপ তৈরি হয়েছে। শহরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে।’‌ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ কলকাতায় থাকায়, এ নিয়ে তঁার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।‌   ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top