পঙ্কজ সরকার, মালদা, ১৩ জানুয়ারি- বুধবার মকর সংক্রান্তি। পিঠেপুলি খাওয়ার দিন। তার আগে জমে উঠেছে ক্ষীর বাজার। জেলার ব্যবসায়ীদের দাবি, উত্তরবঙ্গের অন্যতম ক্ষীর বাজার এটি। এখান থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ক্ষীর রপ্তানি হয়ে থাকে। গত বছর পর্যন্ত ভেজাল ক্ষীরের রমরমা ছিল মালদার অতুল মার্কেটের ক্ষীর বাজারে। যাদবসভার পক্ষ থেকে নজরদারিতে এখন খাঁটি ক্ষীরই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে হাতে মাত্র দু’দিন। তার আগে জমে উঠেছে ক্ষীরের বাজার।
যতই সোশ্যাল মিডিয়ার দাপট থাকুক না কেন, পিঠেপুলির ঐতিহ্যটা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ একটা থেকেই যাচ্ছে। ভাপা পিঠে, কুলি পিঠে, তিলের পুলি, দুধপুলি, ঝিনুক পিঠে, ছাঁচ পিঠে— ‌রকমারি সব পিঠে। আর সেই পিঠের জন্য চাই ক্ষীর। সোমবার ক্ষীরের বাজারে গিয়ে দেখা গেল ২৮০–৩০০ টাকা কেজি দাম ক্ষীরের। যেখানে দু’‌দিন আগেও দাম ছিল ২০০ টাকা। দু’‌ধরনের ক্ষীর। একটি লালচে, অন্যটি ফ্যাকাসে সাদা ধরনের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘড়ির জ্বালে তৈরি ক্ষীরের রং লালচে হয়ে থাকে। আর গ্যাস, কয়লায় তৈরি ক্ষীর সাদা রংয়ের। শহরের অতুল মার্কেটে রয়েছে ক্ষীর বাজার। কয়েকশো ব্যবসায়ী ক্ষীর নিয়ে বসেন। ক্ষীরের সঙ্গে বসেছে ছানাও। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ ব্যবসায়ী। ফি–বছর মকর সংক্রান্তির দু’‌দিন চড়া দামে বিক্রি হয়ে থাকে ক্ষীর।
এই ক’‌টা দিন ক্ষীর ব্যবসায়ীদের। কিছু করার থাকে না তাঁদের। এক ব্যবসায়ী কমল ঘোষ বলছেন, ‘‌বছরভর আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলি। কিন্তু এই দু’‌দিন কোনও সমঝোতা নয়। নিলে ভাল, না নিলেও ভাল। এই সময় নির্ধারিত বাজারের এক টাকাও কম নয়।’‌ ক্ষীর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৫ কেজি দুধ ফুটিয়ে শুকনো করে ক্ষীর পাওয়া যায় ৩ কেজির মতো। জানা যায়, এ জেলার রায়পুর, খাসিবাড়ি, মোহদিপুর, কমলাবাড়ি, রামকেলি, এ কে গোপালন কলোনি থেকে সাধারণ বাজারে ক্ষীর নিয়ে আসেন পাইকাররা। এ জেলার ক্ষীর শুধু মালদাতেই নয়, দুই দিনাজপুর, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি–সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যায়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুকুমার ঘোষ, কালা ঘোষ, নিখিল ঘোষরা বলেন, ‘‌এ জেলায় ক্ষীরের বাজার ভাল। জেলার অন্যতম ঐতিহ্য বলা যেতে পারে। দুপুর থেকে বসে আমাদের বাজার। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আমাদের বছরভর ব্যবসা হয়। মিষ্টির দোকানগুলিই আমাদের স্থায়ী খদ্দের। আর উপরি পাওনা মকর সংক্রান্তি। এই সময় ক্ষীরের দাম কেজি প্রতি ৪০০ টাকাও হয়ে যায়।’‌

এই ক্ষীর দিয়েই তৈরি হবে পিঠে। ছবি: প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top