অতীশ সেন, বানারহাট, ১০ সেপ্টেম্বর- ভুটান পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে রবিবার মাঝরাতে আচমকা জল ঢুকে পড়ল বানারহাট ও বিন্নাগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায়।  ডুয়ার্সেও টানা বৃষ্টি হওয়ায় জল আরও ফুলেফেঁপে উঠল। তীব্র বৃষ্টির জেরে মাঝরাত নাগাদ বানারহাটের হাতি নালার (উমেশ খাল) জল উপচে উঠে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। জল ঢুকে পড়ে শান্তিপাড়া ও বানারহাট হাসপাতালে। বন্যার জল ঢুকে যায় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, সেচদপ্তর, বনদপ্তর, ব্যাঙ্ক–‌সহ বানারহাটের প্রায় সব সরকারি দপ্তরে। জল ঢুকেছে বানারহাট থানার মধ্যেও। 
রাত থেকেই অসহায় পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে পরিষেবা প্রদানকারী দপ্তরগুলিই জলের তলায় ডুবে যাওয়ায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমস্যা হয়। তারপরেও প্রশাসন ছুটে যায় হাসপাতালে। সেখানে রোগীরা একরকম জলে ভাসছিলেন। উদ্ধারকারীরা লাইফবোটে করে সকলকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর পাশাপাশি রোগীদের বীরপাড়া হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে এখনও কাটাতে হচ্ছে। হাসপাতালে জলবন্দী হয়ে থাকা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উদ্ধার করে অনেককে ধুপগুড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জলের তীব্রতার জেরে বানারহাট বাজারের একটি দোকান ভিত সমেত ভেসে গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য দোকান ও বাড়ি। টানা বৃষ্টির সঙ্গেই দফায় দফায় চলতে থাকে লোডশেডিং। বানারহাট ও বিন্নাগুড়িতে পি.এইচ.ইর সরবরাহ করা পানীয় জল ছাড়া বিকল্প কোনও জলের উৎস না থাকায় দেখা দেয় তীব্র জলকষ্ট। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় টেলিফোন পরিষেবাও বিকল হয়ে থাকে।  
বানারহাটে বন্যা–‌কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালী রায় ও নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা। তাঁরা উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরই পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টির জেরে নাগরাকাটা বাজার–‌সহ নন্দু মোড়, স্টেশন পাড়া, সুভাষ পল্লী, সুখানী বস্তি এলাকার প্রচুর বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিন্নাগুড়ির স্টেশন পাড়া, ডিপো পাড়া, এসএন কলোনি–‌সহ বড় এলাকা। আংরাভাষা ও ডুডুয়া নদীতেও নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়ে গিয়েছে গয়েরকাটা চা ও সাঁকোয়াঝোড়া ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপালি বস্তিতে। 
বন্যাকবলিত এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়। তবে সাময়িক ভাবে বৃষ্টি বন্ধ হলেও ভুটান পাহাড়ের কোলে আবারো কালো মেঘ জমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। এছাড়াও তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে মাল ব্লকের চাপাডাঙা, চেংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এবং পশ্চিম সাংগোপাড়ার বহুবাড়িতে জল জমে যায়। 

রোগী নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় লাইফবোট। বানারহাট হাসপাতালে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top