সুদীপ্ত মজুমদার, হলদিবাড়ি, ২০ আগস্ট- কাজে গিয়ে কেরলের ভয়াবহ বন্যায় আটকে রয়েছেন কোচবিহারের হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বহু শ্রমিক। পরিস্থিতি এমনই যে, দিনের পর দিন তাঁদের অনেকেরই কোনও খোঁজ নেই। ফলে চরম উদ্বিগ্ন পরিবারগুলি। বিষয়টি জানতে পেরে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসনও।
প্রতি বছরই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা থেকে বহু শ্রমিক দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে কাজ করতে যান। এবারও কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি ব্লক ও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মানিকগঞ্জ, সাতকুড়া, মালকানি এলাকার বহু যুবক পেটের টানে পাড়ি জমিয়েছে কেরলে। বন্যা ওলটপালট করে দিয়েছে কেরলের জনজীবন। সেখানেই আটকে পড়েছেন শ্রমিকরা। তাঁরা কী অবস্থায় রয়েছেন? আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না‌, এইসব চিন্তা ভাবিয়ে তুলেছে শ্রমিক পরিবারগুলিকে। কেরল সরকার ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের খোঁজ নিতে একটি হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছে। নম্বরটি হল ০৪৭১–‌২৩৩০৮৩৩। হলদিবাড়ি ব্লক প্রশাসন সেই নম্বর বিভিন্ন জায়গায় টাঙিয়ে দিচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষ সেই নম্বরে যোগাযোগ করে প্রিয়জনের খোঁজ নিতে পারেন। 
দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাওলাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সায়ের আলি কেরালায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। বন্যার পর থেকে আর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই। পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাননি। গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারটির। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা–‌সহ তাঁর পথ চেয়ে বসে আছেন স্ত্রী বিজলি খাতুন ও বছর দেড়েকের ছেলে সাহিল আলি। বিজলি খাতুন বলেন, ‘‌বন্যার জল বাড়ার সময় ও ফোন করে বলেছিল জল বাড়ছে। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। এখন সে কী অবস্থায় আছে, কী খাচ্ছে, কিছুই জানি না।’‌ এরকম আরও অনেক পরিবারই প্রিয়জনের খোঁজ না পাওয়ায় উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দেওয়ানগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩ নং হুদুমডাঙ্গার বাসিন্দা কৃষ্ণপদ রায়, জয়দেব রায়, মলয় রায়, অজয় রায়রাও বন্যায় আটকে পড়েছেন।

উদ্বিগ্ন সায়ের আলির পরিবার

জনপ্রিয়

Back To Top