সাগরিকা দত্তচৌধুরি- রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল আরও একজনের। রাজ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২। মৃত মহিলা কালিম্পঙের বাসিন্দা। নতুন করে আক্রান্ত একজনের হদিশ মেলে। নতুন করে করোনা–আক্রান্ত একজনের হদিশ মেলে। আক্রান্তের সংখ্যা ২২। এদিন নতুন করে আর কাউকে গৃহ পর্যবেক্ষণ রাখা হয়নি। নতুন করে ৯৯ জনকে হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছে। 
কালিম্পঙের বাসিন্দা ৪৪ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হল। তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য ৭ মার্চ চেন্নাই যান। তাঁরা ১৯ মার্চ ফেরেন। শিলিগুড়ির এক আত্মীয়ের বাড়িতেও ওঠেন। ২০ মার্চ স্থানীয় একটি ক্লিনিকের চিকিৎসককে দেখিয়েছিলেন। শিলিগুড়ির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটি স্ক্যান ও এক্স–রে করিয়েছিলেন। কালিম্পঙের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকের ক্লিনিক সিল করে দেওয়া হয় এদিন। ২৬ মার্চ জ্বর, সর্দি–কাশি নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। বাগডোগরা বিমানবন্দরে যে বিমানে তিনি এসেছিলেন সেই বিমানের আশপাশের সহযাত্রীদের খোঁজ চালাচ্ছে প্রশাসন। সিকিমের ৬ জন তাঁর সহযাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। সিকিম সরকার ওই ৬ জনকে চিহ্নিত করেছে। ৩ সহযাত্রীর হদিশ মিলেছে। তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। বাকি আরও ৩ যাত্রীর খোঁজ চলছে। মৃতের মেয়েকে এবং যে চিকিৎসকের চেম্বারে তিনি গিয়েছিলেন তাঁদের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির আগে মৃত ওই মহিলার সংস্পর্শে অনেকেই এসেছিলেন। সেই কারণে যথেষ্ট চিন্তিত স্বাস্থ্য দপ্তর। যে আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন সেখানকার সদস্যদের, মৃতের গাড়ির চালককে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী। শোভাবাজারের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সি এই বৃদ্ধ গত ২–৩ দিন ধরে  জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। জানা গেছে, তিনি বরোদা থেকে ফিরেছেন কিছুদিন আগে। সূত্রের খবর, ২০ মার্চ বৃদ্ধের নাতনি ফেরেন ম্যাঙ্গালোর থেকে। ওইদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৪ মার্চ হাসপাতালের ওপিডি–তে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা দেখে ছেড়ে দেন। ২৮ তারিখ ফের অসুস্থ হলে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। রবিবার তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বৃদ্ধের প্রবল শ্বাসকষ্ট রয়েছে।
বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি বরানগরের বাসিন্দা ৬৬ বছরের বৃদ্ধের অবস্থা সঙ্কটজনক। সোমবার লেক টাউনের নার্সিংহোম থেকে এখানে আনা হয়। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা আশপাশের লোক, পরিবারের সদস্য, নার্সিংহোমে বৃদ্ধের নমুনা সংগ্রহকারী, অ্যাম্বুল্যান্স চালক–সহ এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এম আর বাঙুরের আইসোলেশনে ৩ জনকে এবং বাকি ১৮ জনকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। নার্সিংহোমের ২ চিকিৎসক–সহ ৫ স্বাস্থ্যকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমে ভর্তির আগে চিনার পার্কে এক বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্ত দেখিয়েছিলেন। সেখানকার ২ চিকিৎসককে এবং পঞ্চসায়রের বেসরকারি হাসপাতালেরও ২ চিকিৎসককে এবং কয়েকজন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ২৬ মার্চ লেক টাউনের একটি নার্সিংহোমে ভর্তির পর রবিবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। জানা গেছে, আক্রান্তের ভাই কিছুদিন আগে মধ্যপ্রদেশ থেকে ফেরেন। ফেরার পর তিনি ও করোনা–আক্রান্ত প্রৌঢ় জ্বরে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত প্রৌঢ় কিছুদিন আগে মানিকতলার এক শ্রম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রেফার লেক টাউনের নার্সিংহোমে। আক্রান্তের ভাই ভিনরাজ্য থেকে আসার তথ্য গোপন করে পঞ্চসায়রের এক বেসরকারি হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি হন। এখন আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর পেটে ব্যথা আছে। নমুনা পাঠানো হয় এস এস কে এম হাসপাতালে। রাতে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। 
হুগলির শেওড়াফুলির বাসিন্দা ৫৯ বছরের প্রৌঢ়ের অবস্থা অতি সঙ্কটজনক। প্রবল শ্বাসকষ্টে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। জ্বর, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ১৬ মার্চ থেকে ভুগছিলেন। চন্দনগরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। ২২ মার্চ ছুটি হলে সমস্যা ফের বাড়ে। ২৮ মার্চ সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। আক্রান্তের পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করা হয়। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চন্দননগরের ওই নার্সিংহোমকে কোয়ারেন্টিন করা হয়। নতুন রোগী ভর্তি করা যাবে না। ভর্তি থাকা কোনও রোগীকে ছুটি দেওয়া যাবে না।  আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তির আগে দুর্গাপুর যাতায়ত করেছেন। সেখানে একটি রড তৈরির কারখানায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ১৩ মার্চ। দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়ায় যান। কারখানার পাশের একটি লজে রাতে থাকেন। ১৪ মার্চ শেওড়াফুলি ফেরেন। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের খোঁজ শুরু হয়েছে প্রশাসন। লজে যান স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। নয়াবাদের বাসিন্দা ৬৬ বছরের বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও সামান্য উন্নতি হয়েছে। পঞ্চসায়রের বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ভর্তি। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বিয়েবাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হন। এগরা, পাঁশকুড়া এবং হলদিয়া হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহভাজন ১৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৫ জনের আক্রান্তের সংস্পর্শে আসার যোগ রয়েছে। তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্ৰহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তমলুক স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল। সোমবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জীবাণুমুক্ত করার কাজ। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন, করোনার সংক্রমণ যতদিন না রুখে দেওয়া হচ্ছে, ততদিন এই কাজ লাগাতার চলবে।‌  বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে ভর্তি তেহট্টের ৫ জনের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। ওই পরিবারের সংস্পর্শে এসেছিলেন মোট ৬৭ জন। তাঁদেরও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেনা হাসপাতালের আক্রান্ত চিকিৎসকের অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তিনি যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। 
এদিকে এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া বনগাঁর এক মহিলার মৃত্যু হয় সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ। ৪৫ বছরের ওই মহিলাকে রবিবার রাতে আইসোলেশনে রাখা হয়। এসএসকেএম থেকে করোনা–‌রিপোর্ট আসার আগেই মৃত্যু হয়। কিছুদিন আগে তিনি ভেলোর গিয়েছিলেন চিকিৎসায়। অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। রিপোর্ট না এলে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে না। সরকারি নির্দেশিকা মেনে মৃতদেহ বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেটবন্দি করে মর্গে রাখা হয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সন্দেহভাজন আরও ৩ জন ভর্তি এনআরএসে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top