অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ১৬ সেপ্টেম্বর- রবিবার থেকেই আসতে শুরু করেছিলেন পর্যটকরা। সোমবার থেকে সরকারিভাবে জঙ্গল খুলতেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া, চিলাপাতা, গরুমারা, লাটাগুড়ির জঙ্গল এলাকায় থাকা লজ, হোম–স্টে গুলিতে পৌঁছে গেলেন পর্যটকরা। জলদাপাড়ায় হাতি সাফারি, জিপ সাফারি, চিলাপাতা–গরুমারাতেও জিপ সাফারি শুরু হয়ে গেল। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাস থেকে জুন মাস– টানা ৯ মাসই এখন ডুয়ার্সে পর্যটনের মরশুম বলে ধরা হয়ে থাকে। মহালয়ার পর থেকে দশমী পর্যন্ত সময়টিতে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে জঙ্গল এলাকাগুলিতে। জঙ্গল খুলে গেলেও এবার পর্যটকদের জন্য ঘুরে বেড়ানোর স্পট বা বিশেষ বিশেষ রুটগুলিতে গত ১০–১২ বছর যা নিয়ম বহাল ছিল তাই থাকছে। 
জয়ন্তীতে সোমবার সকালে ৫টি গাড়ি জঙ্গল সাফারি করে। বিকেলেও চলে সাফারি। এবারে ৬ জনের একটি দলকে জিপ সাফারি করতে ৩০০ টাকা গাইড চার্জ–‌সহ ১৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। জলদাপাড়াতে দিনে চারটি করে সাফারি চলবে। ৩৬টি জিপ থাকছে এই সাফারিতে। কম–‌বেশি ২৬০০ টাকা খরচ পড়বে সাফারি পিছু। চিলাপাতায় ১৮টি জিপসি অংশ নেয়। জয়ন্তী, জলদাপাড়া, চিলাপাতা প্রতিটি ক্ষেত্রে কমবেশি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ৩০–‌‌৩৫ কিমি এলাকা জুড়ে চলে সাফারি। জলদাপাড়ায় এলিফ্যান্ট সাফারির জন্য ৫–৬টি কুনকি হাতিকে সোমবারই প্রস্তুত করে জঙ্গলে পাঠানো হয়। এদিকে, শুধু জয়ন্তী–রাজাভাতখাওয়া মিলিয়ে কমবেশি ৫০টির কাছাকাছি লজ হোম–স্টে রয়েছে। পর্যটকদের অনেকে বক্সা পাহাড়ের লেপচাখা, সমতলে থাকা ২৮ বস্তি, ৩০ বস্তি এলাকাতেও কিছু কিছু করে গেছেন। 
জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, ‘‌আশা করব কোনও ব্যক্তি প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য নিয়ে জঙ্গলে ঢুকবেন না।’‌ উল্লেখ্য, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব রবিবার পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘‌বাঙালি ভ্রমণপ্রেমী। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে জঙ্গল এলাকা পুরোপুরি প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল।’‌ জয়ন্তী গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক, শেখর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌আমরা গাইডদের তরফে বন দপ্তরের কাছে ২ সেট নতুন ইউনিফর্মের আবেদন করেছি। ৮–১০ বছর আগে শেষবার ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছিল।’‌ পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসু বলেন, ‘‌খুবই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আসছেন পর্যটকরা। তবে ফরেস্ট প্রশাসন ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের আরও অনেক নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ছোট ছোট যে সমস্যা আছে সেগুলিও দ্রুত দূর হবে।’‌ 

হাতিদের স্নানদৃশ্য জিপ সাফারি থেকে ক্যামেরাবন্দি করছেন পর্যটকরা। জলদাপাড়ায়। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top