পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্বে আসা এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে। সেই অভিযোগ পেয়ে রাতারাতি ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি বিএসএফের ওই বাহিনীর অফিসারের মাথায় অন্য এক অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে। শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্যে। অভিযোগ, বিএসএফের ওই বাহিনী রামের পুজো করতে মানুষকে হুকুম দিচ্ছিল। জওয়ানরা স্থানীয় ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করছিলেন। রামনবমীতে পুজোর চাঁদা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। এলাকার তৃণমূল সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের বিজেপি করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, জলপাইগুড়ি জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পুঁটিমারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছিলেন তৃণমূল নেতারা।
ময়নাগুড়ি ব্লকের বার্নিস গ্রামের পুঁটিমারি মথুরামোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয় বাহিনীর সদস্যদের। অভিযোগ, বাহিনীর সদস্যরা এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার ছলে বিজেপি–‌‌র হয়ে ভোট প্রচার করছিলেন। এছাড়া স্কুলের মধ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই ক্যাম্পের জওয়ানদের সঙ্গে বিজেপি–‌র কয়েকজন নেতাকে গোপনে বৈঠক করতে দেখা গেছে বলেও তৃণমূলের অভিযোগ। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক শিল্পা গৌরীসারিয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও বিজেপি–‌‌র জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নামে মিথ্যে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও জওয়ান বিজেপি–‌‌র হয়ে প্রচার চালাননি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। সীমান্ত এলাকায় এর আগেও বিজেপি–‌র হয়ে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফার নির্বাচনে কোচবিহারে বিএসএফ জওয়ানরা বিজেপি–‌র হয়ে কাজ করেছিলেন, এমন অভিযোগ করেছিলেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ময়নাগুড়ির এই ঘটনা আরও হইচই ফেলে দিল। জানা গেছে, বিজেপি–‌‌র কয়েকজন নেতা বিএসএফের ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে সেখানকার তৃণমূল নেতাদের নামের একটি তালিকা তুলে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী তৃণমূল নেতাদের ডেকে হুমকিও নাকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এলাকার তৃণমূল নেতা–‌‌কর্মীরা। বিষয়টি জটিল হতে পারে দেখে সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ পেয়ে নির্বাচন কমিশন রাতারাতি ব্যবস্থা নেয়। সরিয়ে দেওয়া হয় পুঁটিমারিতে থাকা এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‌নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা অভিযোগ এসেছিল। ময়নাগুড়ি পুঁটিমারি স্কুলের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা নাকি বিজেপি করতে হবে বলে ওই এলাকার মানুষকে প্রভাবিত করছিলেন। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এই ঘটনার সমাধানের রাস্তা হিসেবে পুঁটিমারি স্কুলের ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ময়নাগুড়ি কলেজে সরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি ময়নাগুড়ি কলেজে থাকা এক কোম্পানি বাহিনীকে পুঁটিমারি স্কুলে পাঠানো হয়েছে।’‌ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা পবন শর্মা নামে ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল নেতারা। যদিও তাঁকে না সরিয়ে বি এস ডোগরা নামে অন্য একজন অফিসারকে তাঁর মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top