অভিজিৎ চৌধুরি ও পার্থসারথি রায়, মালদা ও জলপাইগুড়ি, ২৮ মে- লকডাউনে জামাইষষ্ঠীর বাজার দফারফা হলেও ষষ্ঠীপুজো চলল তার মধ্যেই। তাও আবার এমনি এমনি নয়, মুখে মাস্ক বেঁধেই ষষ্ঠীপুজোয় মাতলেন বাড়ির মেয়েবউরা। জামাইকে কোনওরকমে আপ্যায়ন করে শাশুড়ি উপহার হিসেবে যা দিলেন, তাও বেশ মজার। মাস্ক ও স্যানিটাইজার। বার্তা দিলেন, এখন স্রেফ পেটপুজো নয়, নিরাপত্তাই আসল কথা।
বৃহস্পতিবার মালদা শহরের মালঞ্চপল্লী, কৃষ্ণপল্লী, নেতাজি কলোনি, বাসুলিতলা, দুই নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি–‌সহ বিভিন্ন এলাকাতেই দেখা গেছে, কোথাও বাড়ির ছাদে, আবার কোথাও মন্দির প্রাঙ্গণে অনেক মহিলা ষষ্ঠী পুজোয় শামিল হয়েছেন। তবে দূরত্ব বজায় রেখে। পুরোহিত মাস্ক পরেই মন্ত্র পড়ছেন। বাসুলিতলা এলাকার পুরোহিত বিশ্বজিৎ ঝাঁ বলেন, এরকম পুজো আমার পুরোহিত জীবনের ৩০ বছরে করিনি। ঘন ঘন স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়েছে। মুখে মাস্ক পরে মন্ত্রোচ্চারণ করেছি। জামাইষষ্ঠীর পুজো তো বটেই, পাশাপাশি করোনা মুক্তির প্রার্থনাও করেছি। 
অন্যদিকে, জামাইষষ্ঠী‌ উপলক্ষে মেয়ে–‌‌জামাইকে স্যানিটাইজার ও মাস্ক উপহার দিলেন এক শাশুড়ি মা। জলপাইগুড়ি শহরের কংগ্রেস‌পাড়া সংলগ্ন সার্ফের মোড় এলাকায়। শ্বশুরবাড়ি সেনপাড়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী‌কে সঙ্গে নিয়ে মোটরবাইকে চড়ে চলে আসেন শ্বশুরবাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে আসেন কিছু মিষ্টি। মেয়ে ও জামাইকে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণু‌মুক্ত করিয়ে বরণ করেন সচেতন শাশুড়ি ঝর্না সরকার। শেষে আশীর্বাদের পর জামাইয়ের হাতে তুলে দেন স্যানিটাইজার ও মাস্ক। এ বছর নতুন এই উপহার পেয়ে কিছুটা অন্যরকম অনুভূতি প্রশান্তের। শাশুড়ি মা ঝর্না সরকার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়ে জামাইকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এর থেকে ভাল উপহার আর কিছু মনে হয়নি। তাই মাস্ক ও স্যানিটাইজার তুলে দিয়ে‌ছি জামাইয়ের হাতে।

জলপাইগুড়িতে জামাইকে মাস্ক–‌স্যানিটাইজার উপহার শাশুড়ির। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top