পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার অনুমতি আসায় শহরের মানুষ যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি তাঁরা উদ্বিগ্নও। কারণ, মেডিক্যাল কলেজের কাজ শুরু হতে না হতেই তা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্র অনুমোদনের চিঠি রাজ্যকে না দিয়ে বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতিকে দেওয়ায় রাজ্যের মন্ত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জলপাইগুড়ির মানুষ এতবড় প্রাপ্তির পরেও মন খুলে আনন্দ করতে পারছেন না। ‌
সামনেই জলপাইগুড়িতে পুরসভা নির্বাচন। তাই নির্বাচনী চমক দিতেই বিজেপি নেতাকে মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদনের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ করলেন জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ ও এসজেডিএ চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, ‘‌উন্নয়ন নিয়ে এভাবে রাজনীতি করা ঠিক নয়। বিষয়টি আগে রাজ্য সরকারকেই জানানো উচিত ছিল।’‌ বিষয়টিকে খুব একটা ভালভাবে নিচ্ছেন না জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ মানুষও। কারণ, এই জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার দাবি অনেক আগে থেকেই। তৃণমূল নেতারা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার কথা অনেক আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তবে দেরিতে হলেও মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি মেলায় অনেকেই আনন্দিত। 
জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, ‘‌জলপাইগুড়িতে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার বিষয়টি আনন্দের খবর। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১৭ সালেই জলপাইগুড়িতে এসে ঘোষণা করে গিয়েছিলেন এখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ দেখে তখন থেকেই আমরা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছিলাম।’‌ আইএমএ–‌‌র সম্পাদক ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১২ সালে জলপাইগুড়িতে এসে প্রথম এখানে একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোলার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তখন থেকেই আমরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমির জন্য কাজ শুরু করি। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমির বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। জমি রয়েছে জানতে পেরে তখনই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ার বিষয়টি একরকম পাকা হয়ে যায়।’‌ জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার বলেন, এখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোলার বিষয়টি খুবই আনন্দের। তবে এটা নিয়ে যেভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে, তা একেবারেই ঠিক নয়। এই কৃতিত্ব জলপাইগুড়িবাসীর। কারণ, এটা জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা গোবিন্দ রায় বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এখানে কাজ শুরু করা হোক। ২০২০ সালের জুন মাসেই যাতে এখানে মেডিক্যালের ছাত্রভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। পাশাপাশি কোনও চাপানউতোরে না গিয়ে মানুষের স্বার্থে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য পরিকাঠামো নির্মাণ করার দাবি জানান তিনি। বিজেপি–‌‌র জেলা যুব সভাপতি শ্যাম প্রসাদ বলেন, ‘‌জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দাবি তুলেছিলেন। সেই অনুযায়ী কাজ হয়েছে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top