অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২‌২ এপ্রিল- দুর্গাপুজোর আগেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে পাতলাখাওয়ায় হতে চলেছে রাজ্যের প্রথম গণ্ডারের রিলোকেশন (এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে স্থানান্তর)‌। বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘‌আগে আমরা ঠিক করেছিলাম ২০২০ অথবা ২০২১ সালে পরপর কয়েকটি দফায় গণ্ডার রিলোকেশন করব পাতলাখাওয়াতে। তবে সময়ের অনেকটা আগেই আমরা পাতলাখাওয়াকে গণ্ডারের বাসভূমি হিসেবে অনেকটাই সাজিয়ে তুলেছি। ঘাসবন তৈরি–‌সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় প্রায় শেষের পথে। আমরা ২০১৯ সালেই সেখানে গণ্ডার ছাড়ব। নির্বাচন পর্বের পরই কলকাতায় বনকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শীতলাকটিকেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে সম্ভব হলে দুর্গাপুজোর আগেও প্রথম দফায় দু’‌টি গণ্ডার নিয়ে যাওয়া হতে পারে।’‌
 রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (‌বন্যপ্রাণ)‌ রবিকান্ত সিনহা বলেন, ‘‌রিলোকেশন হবে। তবে সবার আগে আমাদের গণ্ডারকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কাঁবু করার নির্দিষ্ট ড্রাগের ব্যবস্থা করতে হবে। আপাতত আমাদের দেশে তেমন কোনও ড্রাগ তৈরি হয় না। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরই আমাদের নির্ভর করে থাকতে হয়। ইটর ফাইন (‌এইচসি)‌-‌র মতো নির্দিষ্ট ট্যাঙ্কুলাইজিং ড্রাগ চলে এলেই দ্রুত প্রথম ধাপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, গণ্ডারকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কাঁবু করা যথেষ্টই জটিল একটি প্রক্রিয়া। গণ্ডারকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কাঁবু করা হচ্ছে, তার চিকিৎসা হচ্ছে বা রিলোকেট করা হচ্ছে, দু’‌টি ঘটনাই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিরল।’‌ 
বনকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে এই মুহূর্তে প্রায় ২৫০টির কাছাকাছি বিভিন্ন বয়সের গণ্ডার রয়েছে। তার মধ্যে ৬‌–‌‌১০টি রিলোকেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খায় এমন মাঝ বয়স্ক গণ্ডার চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ২০০০ কেজি ওজনের অতিক্ষিপ্ত প্রাণীটিকে কাবু করতে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। চিহ্নিত গণ্ডারকে কুনকি হাতির দল ঘিরে থাকবে। যিনি ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়বেন, তাঁকেও যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে। গণ্ডারের বুকে বা পেটের দিকে নরম চামড়া লক্ষ্য করে ‘‌ডার্ট’‌ (‌ওষুধযুক্ত ইঞ্জেকশন)‌ ছুঁড়তে হবে। ডার্ট–‌‌এ আহত হয়ে ৮–‌‌১০ মিনিট প্রচণ্ড ছোটাছুটি করবে প্রাণীটি। তারপরই নিস্তেজ হয়ে পড়বে। এরপরই বাকি প্রক্রিয়াটি দেখভাল করবেন পশু চিকিৎসকরা। উল্লেখ্য, বিলুপ্ত কিনারায় পৌঁছে যাওয়া এশিয়ার একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা ভারতে ২৯০০–‌‌র কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, এই মুহূর্তে গণ্ডারকে ট্যাঙ্কুলাইজ করতে ইটরফিন–‌এর বিকল্প দ্বিতীয় কোনও ড্রাগের কথা ভাবতেই পারেন না বিশেষজ্ঞরা। হাতি, বাইসন বা অন্যান্য প্রাণীকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কাবু করার ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধ থাকলেও গণ্ডারের ক্ষেত্রে তেমন সুবিধা নেই। শুধু গণ্ডার রিলোকেশন নয়, দেশব্যাপী ইটরফিনের অভাব থাকায় গণ্ডার অসুস্থ হলেও তার2 চিকিৎসাতে ব্যাঘ্যাত ঘটছে। এদিকে, রাজ্যের তৃতীয় গণ্ডারের আবাসভূমি হিসেবে কবে পথচলা শুরু পাতলাখাওয়ার, সেদিকে নজর থাকছে অনেকেরই। ‌‌

আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে গন্ডার। জলদাপাড়ার জঙ্গলে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top