অলক সরকার ও সঞ্জয় বিশ্বাস,শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং: সমতলে গরম তীব্র হলেই মন ছুটে যায় শীতল পাহাড়ে। আবার শীতের পাহাড়ে তুষারপাত দেখার লোভ নেই, এমন মানুষ পাওয়া ভার। অনেক পর্যটক আছেন, যাঁরা শুধুমাত্র তুষারপাতের টানেই বারবার ছুটে যান সান্দাকফু থেকে ছাঙ্গু বা নাথুলার মতো পাহাড়ি পর্যটন–কেন্দ্রে। কিন্তু এমন তুষারপাত পেতে গেলে, অপেক্ষা করতে হয় প্রচণ্ড শীতের। তাও আবার পাহাড়ের সর্বত্র তুষারপাতের সম্ভাবনা অতি বিরল। ফলে দার্জিলিং গেলেই এখন আর তুষারের দেখা মেলে না। 
কিন্তু গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (‌জিটিএ)‌ চাইছে পর্যটকদের সারা বছর তুষারের স্বাদ দিতে। অর্থাৎ শীত আসুক না আসুক, রোজ বরফে ঢাকা থাকবে পাহাড়। আর এর জন্য জিটিএ পরিকল্পনা করছে পাহাড়ে অত্যাধুনিক স্নো-‌পার্ক গড়ে তোলার। তাও আবার শিলিগুড়ির খুব কাছে। কার্শিয়াং পৌঁছনোর আগেই, রোহিণীতে। যাতে করে শিলিগুড়ির মানুষও ফুরসত পেলেই বরফে দাপিয়ে বেড়াতে পারেন। জিটিএ’‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাং জানিয়েছেন, ‘‌আমরা পাহাড়ের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই। এজন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা করছি। এই পরিকল্পনার মধ্যেই আমরা আইস পার্ক বা স্নো পার্ক রেখেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা রোহিণীতেই এই পার্ক করার কথা ভেবেছি। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করব।’‌ উল্লেখ্য, রোহিণীতে ঘিসিং আমলের একটি দারুণ পার্ক আছে। বিমল গুরুং রোহিণী থেকে গিদ্দা পাহাড় পর্যন্ত রোপওয়ের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত করতে পারেননি। ঘিসিং আমলের পার্কও সেভাবে জনপ্রিয় করে তোলা যায়নি। যে কারণে রোহিণীতে পর্যটকদের আনাগোনা আজও সেভাবে দেখা যায় না। বিনয় তামাং যেভাবে সেই রোহিণীতে স্নো-‌পার্কের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছেন, তাতে রোহিণীর মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের মধ্যেও দারুণ সাড়া পড়বে বলে মনে করছেন পাহাড়–সমতলের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এদিকে প্রকল্পের নকশা কিছু না হলেও জিটিএ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ঘেরাটোপের মধ্যে এই স্নো পার্ক তৈরি হলে সেখানে নির্দিষ্ট পোশাক পরেই প্রবেশ করা যাবে। পার্কের মধ্যে প্রবেশ করলে মনেই হবে না গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকাল। মনে হবে কনকনে ঠান্ডায় পাহাড়ে কিংবা বরফের কোনও দেশে আপনি আছেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top