আজকালের প্রতিবেদন, দার্জিলিং, ২৩ মার্চ- নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা।
পরিবহণ সংগঠনগুলি থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ট্যাক্সি–‌সহ সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি জিটিএ’‌র স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফিরে আসা সবাইকে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং আবশ্যিকভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যদিও পাহাড়ের মানুষ পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের প্রস্তুত রেখেছেন। এদিন বিকেলেই তাঁরা ঘরে ঢুকে পড়বেন। ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাহাড় জনশূন্য থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখান থেকে সমস্ত পর্যটক নেমে পড়েছেন।
একদিকে কেন্দ্রের নির্দেশ, তারপর রাজ্য সরকার বাংলার সমস্ত পুর এলাকা লকডাউন করার পর জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা জানিয়ে দিয়েছেন, পাহাড় পুরো বন্ধ থাকবে ৫ দিন। কঠোর ভাবে নজরদারি চলবে। পাহাড়ের পুলিশ থেকে জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগও কড়া নির্দেশ জারি করেছে। সিকিম করোনাভাইরাস নিয়ে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও দার্জিলিঙে কোনও বিধিনিষেধ না করায় আতঙ্ক তৈরি হতে থাকে। পরিস্থিতি আন্দাজ করে পাহাড়েও পর্যটক আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২২ মার্চের মধ্যে পাহাড় থেকে সব পর্যটকদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে পর্যটকরা নেমে গেছেন। ৫ দিনের জন্য খাওয়ার সংগ্রহ করে নিয়েছেন স্থানীয়রাও। ফলে আগামী কয়েকদিন আর কেউ বাড়ির বাইরে বের হবেন না বলেই জানানো হয়েছে। জিটিএ থেকেও বলা হয়েছে, সকলকে সামাজিক দূরত্ব রাখার। লোকজন যাতে নিজের বাড়িতে থাকেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, কারখানা, গুদাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন সকালে সামান্য কিছু দোকানপাট খুলেছিল। এর মধ্যে লোকজন রসদ সংগ্রহ করছেন। যেহেতু ২০১৭ সালে টানা ১০৪ দিন বনধের অভিজ্ঞতা তাঁদের আছে, ফলে পাহাড়ের মানুষ আপাতত চিন্তা করছেন না। পাশাপাশি প্রশাসন পাশে থাকায় নিশ্চিন্তেই আছে সবাই। অনীত থাপা জানিয়েছেন, সুরক্ষার জন্য দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিক ও কালিম্পং শহর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’‌ অন্যদিকে, বিমল গুরুং গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এদিন একটি ভিডিও বার্তায় পাহাড়বাসীকে সরকারের নির্দেশ মানার পরামর্শ দিয়েছেন।

দার্জিলিং ম্যাল সংলগ্ন এলাকা। আপাতত দোকান খোলা নেই। ছবি:‌ সঞ্জয় বিশ্বাস
 

জনপ্রিয়

Back To Top