আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাংবিধানিক পদ এমন কাজ করতে পারে, এর আগে রাজ্য দেখেনি। এদিন শিলিগুড়িতে হাজির হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সেখানেই সমস্ত প্রশাসনিক শীর্ষকর্তা, পুলিশ ও সমস্ত দল ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল তাঁর। সেই বৈঠক শেষেই শিলিগুড়ি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। জানিয়ে দেন, তিনি আশা করেছিলেন প্রশাসনের সমস্ত স্তরের অধিকারিকরা এদিনের আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এদিন বৈঠকে ছিলেন না পুলিশের কোনও শীর্ষ কর্তা, ছিলেন না আলাপন ব্যানার্জি, মন্ত্রী গৌতম দেব বা অন্য প্রশাসনিক কর্তারা। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও উদাসীন ভাবে রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, এদিনের এই উপস্থিতির কথা থাকলেও হতে পারে অন্য কোনও কাজে ওনারা আটকে পড়েছেন। আগামী দিনে এমন আলোচনা হলে তাঁরা নিশ্চয়ই উপস্থিত থাকবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিন কিছুটা রাজ্যপাল স্বভাববিরুদ্ধ ভাবেই দার্জিলিংয়ের উন্নয়ন থেকে শুরু করে একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দল, মত রং নির্বিশেষে রাজভবনে সমস্ত দলকে তিনি স্বাগত জানাবেন। কিছুটা সতর্ক করার মতো এদিন তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে তিনি কাজ করবেন না। তবে যতটা তাঁর এক্তিয়ার ভুক্ত ততটা তিনি পালন করবেনই। কারণ, তিনি মনে করেন রাজ্য প্রশাসনের অংশ তিনিও। তাই এরপর প্রতিটি জেলায় তিনি সফরে যাবেন বলেও জানিয়ে দেন। সেখানেও এমন নানা পদাধিকারির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা বলেন তিনি। 
এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায় ২৫–৩০ মিনিট কথা বলেন জগদীপ ধনকড়। স্বাভাবিকভাবে সেখানে প্রশ্ন ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও। উত্তরে রাজ্যপাল জানান, পড়ুয়াদের মাঝে একজন উপাচার্যের যাওয়ার অধিকার আছে, তাই তিনি গেছিলেন। গেছিলেন পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে। এবং পড়ুয়ারা আচার্য হিসাবে তাঁকে একটুও অসম্মান করেননি। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির প্রশংসা করেছেন। এদিনও তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে যিনি বসে আছেন, তাঁকে আমি সম্মান করি। এবং সেটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই। তবে আমি প্রোটোকলের দাস নই, আমি কাজে বিশ্বাসী। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে রাজ্যপাল বলে যান, ‘‌আমি এখানে আসতে চাই আবার। আমাকে আপনারা নিয়মমাফিক আমন্ত্রণ পত্র পাঠান, আমি আসব।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top