অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২৮ মে- প্রায় দেড় মাস পর শুরু হল আন্তঃরাজ্য বিমান চলাচল। দেশজুড়ে অন্যান্য বিমানবন্দরের মতো বাগডোগরা বিমানবন্দরেও আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। লকডাউন চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন অনেকেই৷ বিমানবন্দরে প্রত্যেক যাত্রীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই বিমানে ওঠানো নামানো হয়। 
বিমানবন্দরের ডিরেক্টর সুব্রমণী পি বলেন, ‘সারাদিনে ৬টি বিমান চলবে৷ গুয়াহাটি, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই থেকে বিমান এখানে এসে পৌঁছবে৷ প্রত্যেক যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানিং করিয়ে, যাবতীয় সতর্কতা নিয়ে, সিকিউরিটি চেকিং করিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে আনা হচ্ছে৷ যাত্রীদের লাগেজ ও জুতো স্যানিটাইজ করা হচ্ছে৷ টাচ ফ্রি স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷’‌ উল্লেখ্য, সকাল ১০টায় প্রথম দিল্লি থেকে বাগডোগরার বিমান আসে৷ ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন ওই বিমানে৷ এরপর দিল্লির উদ্দেশে যে বিমান যায় তাতে ১২০ জন যাত্রী ছিলেন। 
২৫ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দর। এর মাঝে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের বিমান এবং সামরিক বিমান ওঠানামা করেছে বাগডোগরা থেকে। গত দু’সপ্তাহ ধরে বিমানবন্দরের অন্দরে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। যাত্রী, বিমান কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ শুরু করার জন্য নানা ধরনের স্লাইড, শেড বা ডিস্ট্যান্ট কাটারের ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের দফায় দফায় স্যানিটাইজেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আলাদা মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ছ’টি বিমান সংস্থার ১৫টি বিমান বাগডোগরা যাতায়াত করবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, করোনার হাত থেকে বাঁচতে নানান উপায় অবলম্বন করছেন সাধারণ মানুষ। বাদ যাননি বাগডোগরা বিমানবন্দরের ট্যাক্সি চালকরাও। বিমানবন্দরে দেখা গেল, নিজেদের সুরক্ষার জন্য চালকের আসনটি প্লাস্টিক দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন ট্যাক্সি চালকেরা। এই বিষয়ে বাগডোগরা ট্যাক্সি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি মিলন সরকার জানান, চালকদের সুরক্ষার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও যাত্রীর সংস্পর্শে কোনও চালক না আসেন৷ প্রত্যেক চালককে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে৷ যাত্রীকে ট্যাক্সিতে বসানোর আগে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি চালকদের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷

বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top