অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: অন্ধ দঁাতালের তাণ্ডবে শুক্রবার দিনভর ত্রস্ত থাকল ফালাকাটার জটেশ্বর এলাকা। পুজোর মুখে হাতির হানায় লাটে উঠল ব্যবসা। বয়সের ভারে নুব্জ হয়ে পড়া বুনো দঁাতালটি একটি চোখে কিছুই দেখতে পায় না বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকালে জটেশ্বরের বিভিন্ন বিভিন্ন পাড়া ঘুরে, সটান জটেশ্বর বাজারের ভেতর ঢুকে পড়ে দাঁতালটি। বেশ কিছু দোকানদার সে সময় দোকানের ঝাঁপ খুলতে ব্যস্ত ছিলেন। তবে বাজারে হাতি ঢুকে পড়ায় যে যেদিকে পারেন ছুটে পালাতে থাকেন। মুহূর্তে খালি হয়ে যায় বাজার এলাকা। কিছুক্ষণ পর লাঠিসোঁটা নিয়ে হাতিটিকে তাড়া করেন স্থানীয় সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। কিছুটা পিছু হঠে হাতিটি। এশিয়ান হাইওয়ে ধরে মুজনাই নদীর পাড়ে গিয়ে একটি ঘাসবনে আশ্রয় নেয়। 
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে মাদারিহাট রেঞ্জ, মাদারিহাট এলিফ্যান্ট স্কোয়াড, জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ মুজনাই নদী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে বুনো হাতিকে বাগে আনার চেষ্টা করেন বনকর্মীরা। ঘিরে ফেলা হয় ঘাসবন। বিকেল ৩টের পর হাতিটিকে ধীরে ধীরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ খয়েরবাড়ির জঙ্গলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, এদিন ভোরবেলা দলগাঁও জঙ্গল থেকে কোনওভাবে পথ ভুল করে লোকালয়ের ভেতর দিয়ে এসে জটেশ্বর পালপাড়ায় পৌঁছে যায় হাতিটি। সেখান থেকে সাহাপাড়া হয়ে জটেশ্বর বাজারে পৌঁছে যায়। প্রকৃতি প্রেমিকদের অনেকে জানান, একেই দলছুট বুনো দাঁতাল, তারপর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক আচরণ করেছে হাতিটি। তার ওপর বিভিন্ন মানুষজনের চিৎকার লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া খেয়ে আরও বিগড়ে যায় সেটি। তবে আশ্চর্যের প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা লোকালয়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত দাপিয়ে বেড়ালেও কোনও ব্যবসায়ীর দোকান, মানুষের বাড়ি বা সরাসরি মানুষকে আক্রমণ করেনি হাতিটি। কয়েক হাজার মানুষ হাতির পেছনে দিনভর ঘুরে বেড়িয়েছে। 
জটেশ্বর বাজারের বাসিন্দা পরেশ দাস, নিখিল অধিকারীরা জানান, সাত–সকালে ঘুম থেকে উঠে এভাবে হাতির সম্মুখে পড়তে হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আরও এক ব্যবসায়ী নিমাই সরকার বলেন, ‘‌কীভাবে সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল বুঝতেও পারিনি আমরা। হাতির দৌলতে পুজোর আগে দিনভর ব্যবসা মার খেয়েছে।’‌ মাদারিহাটের রেঞ্জ অফিসার খগেশ্বর কার্জি বলেন, ‘‌হাতিটির একটি চোখ সম্ভবত নষ্ট। চোখে ভাল দেখতে পায় না। পথ ভুলে লোকালয়ে এসে পড়েছে। হাতিটির দিকে সতর্ক নজর রাখবেন বনকর্মীরা। দিন শেষে হাতিটি গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে জটেশ্বর।

আপন মনে লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দাঁতাল। ছবি:‌ প্রতিবেদক 

জনপ্রিয়

Back To Top