অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ১২ আগস্ট- বিশ্ব হস্তি দিবসে ঠিক কতটা নিরাপদ রয়েছে জঙ্গলের বিপুলদেহীরা? পরিসংখ্যান বলছে, চোরা শিকারের দাপটে অচিরেই চিরবিদায় নিতে চলেছে হাতির পাল। ২০১২ সাল থেকে আগস্ট মাসের ১২ তারিখ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় হস্তি দিবস। নির্বিচারে হাতি বধ রুখতে সচেতনতা প্রচারের উদ্দেশ্যে দিনটি পালন করা শুরু করেন কানাডার দুই চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমস্‌ ও মাইকেল ক্লার্ক। সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে সেই আন্দোলন ক্রমশ গতি পেয়েছে।
বর্তমানে বসতি বাড়ার মাসুল গুণতে গিয়ে জঙ্গল উচ্ছেদের স্রোতে ভেসে গেছে হাতিদের বাসস্থান, খাদ্য সম্ভার। বাধ্য হয়ে তাই লোকালয়ে হানা দিতে শুরু করেছে হাতির দল। এতেই বাড়ছে হাতি–মানুষের সঙ্ঘাত। সেই সংঘাত মেটাতে বিভিন্ন সময়ে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাতির আনাগোনা ঠেকানো যায়নি। এবার সেই উদ্যোগ নিয়েছে শিলিগুড়ির এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সোসাইটি ফর নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন (‌স্ন্যাপ)।‌ 
সংগঠনের সদস্যরাই বানিয়েছেন একটি স্বয়ংক্রিয় ট্র‌্যাকিং ডিভাইস, যা দিয়ে হাতির গতিবিধি জানা যাবে। 
সংগঠনের সদস্যদের অনেকেই ইলেকট্রনিক্সের ছাত্র, আবার কেউ শিক্ষক। সংগঠনের সভাপতি কৌস্তভ চৌধুরির মতে, এই যন্ত্রটি সোলার এনার্জি নিয়ে কাজ করবে। বনবস্তি এলাকায় জঙ্গলের কাছে পোলের সঙ্গে একটি বাক্সের মধ্যে এই যন্ত্র রাখা থাকছে। বনদপ্তরের বিট অফিসে লাগানো হচ্ছে অ্যালার্ম। যা ওই মেশিনের সঙ্গে ওয়্যারলেস সেন্সারের মাধ্যমে কাজ করবে। এরপর ওই পোলের ২০০ মিটারের মধ্যেও যদি হাতি বিচরণ করে সেক্ষেত্রে ওই সেন্সারের মাধ্যমে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এতে সজাগ থাকবেন বনকর্মীরাও। 
এদিন বিশ্ব হস্তী দিবস উপলক্ষ্যে মহানন্দা অভয়ারণ্যের পুংডিং–এ ৮টি এবং চামটা এলাকায় ৪টি এই স্বয়ংক্রিয় মেশিন লাগানো হয়। ছিলেন দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের ডিএফও জিজু জসপর জে। এরআগে রামসাই, গরুমারা, বিচাভাঙা–সহ কিছু জায়গায় এই স্বয়ংক্রিয় মেশিন লাগানো হয়েছে। কৌস্তভ চৌধুরি বলেন, ‘‌যন্ত্রটি সংগঠনের ইলেকট্রনিক্স ইনচার্জ শিমু সাহা–র দীঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।’‌ শিমু সাহা বলেন, ‘‌২০১৭ সালে এই মডেল তৈরির কথা মাথা আসে। সেই মতো সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে সাহায্য করেন। এই যন্ত্র তৈরিতে আমাদের আর্থিক সহায়তা করছে বিদেশি সংস্থা ‌এশিয়ান এলিফ্যান্ট সাপোর্ট।’‌ ডিএফও জানান, ‘‌এটা খুব ভাল উদ্যোগ। গরুমারাতে ইতিমধ্যেই সাফল্য এসেছে। আশা করছি, সুকনা এলাকাতেও এই যন্ত্র ভাল কাজ করবে।’‌

হস্তি দিবসে জলদাপাড়ার হাতি শম্ভু, মৈনাক, জিনি, কুন্তল, কর্ণ, ভীমদের স্নান করানো হল সুবোধ বালকের মতো। ছবি :‌ দিব্যেন্দু ভৌমিক
 

জনপ্রিয়

Back To Top