অলক সরকার, ইসলামপুর, ২৯ এপ্রিল- মানুষের ঢল দেখেই করিম চৌধুরি আগাম জানিয়ে দিলেন ‌তিনি ‌জিতছেন‌। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমাকে ভোলেননি।’‌ করিমের মনোনয়নে এত মানুষের প্লাবন দেখে বিরোধী প্রার্থী কটাক্ষ না করে পারলেন না। বললেন, ‘‌ভিড় দেখেই সব সময় বোঝা যায় না। জনতা এখন খুবই চালাক।’‌ করিমের মনোনয়নে হাজির কানাইয়ালাল আগরওয়াল, গোলাম রব্বানি থেকে অমল আচার্যরা জানালেন, বিরোধীরা এসব ভেবেই সন্তষ্ট থাকতে শিখুক। 
ইসলামপুরে বিধানসভা উপনির্বাচনে করিম চৌধুরির তৃণমূল প্রার্থী হওয়া ছিল প্রথম চমক। দ্বিতীয় চমক অবশ্যই এদিনের ছবির ফ্রেম। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছেন লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল, মন্ত্রী গোলাম রব্বানি ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি অমল আচার্য, গঙ্গেশ দে সরকার, খোকন আহমেদ থেকে প্রথম সারির নেতারা। অথচ দুদিন আগেই বিরোধী শিবিরের নেতারা বলার চেষ্টা করছিলেন, করিম চৌধুরিকে নিজের লোকেরাই হারিয়ে দেবে। কিন্তু এদিনের ছবিটা দেখার পর দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে বিরোধী শিবিরের কপালে। 
করিম চৌধুরি জানান, ‘‌একসময় ভুল বোঝাবুঝি ছিল অনেকের সঙ্গে। কিন্তু সম্মানের এই যুদ্ধে সেসব অতীত। এখন একটাই টার্গেট– জিততে হবে। ইসলামপুরকে শান্তি ও উন্নয়ন দিয়ে সাজিয়ে তুলতে হবে।’‌ তাই এদিন বিশাল জমায়েত নিয়ে মনোনয়ন জমা করার পরও কালবিলম্ব করতে চাননি। মনোনয়ন শেষ করেই টোটোয় চাপেন করিম ও কানাইয়ালাল। দু’‌জনেই বেরিয়ে পড়েন প্রচারে। এদিন কংগ্রেসের মুজফফর হুসেন, সিপিএমের স্বপন গুহনিয়োগী,  বিজেপি প্রার্থী সৌম্যরূপ মণ্ডলও একে একে মনোনয়ন জমা দেন। জমা দেন দুই নির্দল প্রার্থী সুজন পাল ও তবিবুর রহমান। কং–‌‌প্রার্থী জানান, ‘‌রাজনীতিতে অনেক বছর হয়েছে। ভিড় সবসময় জয়ের বার্তা দেয় না। ইসলামপুরেও তাই হবে। সিপিএম প্রার্থী জানান, লোকসভায় মহম্মদ সেলিম যে প্রচারের ঢেউ তুলেছিলেন, আমি তাতেই জিতে যাব নিশ্চিত। বিজেপি প্রার্থী জানান, হাওয়া এখনও মোদিরই চলছে। তাই নিশ্চিত জিতব আমরাই।

দল বেঁধে মনোনয়ন। প্রার্থী করিম চৌধুরির সঙ্গে মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, কানাইয়ালাল আগরওয়াল, অমল আচার্য। ইসলামপুরে, সোমবার। ছবি:‌ গৌতম শিকদার

জনপ্রিয়

Back To Top