দেব কুমার, কোচবিহার, ৩ সেপ্টেম্বর- ঢ্যাংকুরাকুর ঢাকের বাদ্যি জানান দিল, মা আসছেন। এই ঢাকের বাদ্যির মধ্যে দিয়েই সোমবার কৃষ্ণ অষ্টমীতে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বড় দেবী বাড়িতে সূচনা হল শারদীয়ার প্রথম পর্বের পুজোর। নিয়ম মেনে এই পুজোয় দেওয়া হল পরমান্ন ভোগ এবং বলি দেওয়া হল পায়রা।
কোচবিহারে রাজার আমল থেকে এই রীতি চলে আসছে। শ্রাবণ মাসের শুক্ল অষ্টমীতে কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়িতে ডাঙারাই মন্দিরে বড় দেবীরূপী ময়নাকাঠ পুজোর পর তা নিয়ে আসা হয় কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহন বাড়িতে। এখানে প্রায় একমাস পূজিত হন তিনি। অর্থাৎ এদিন থেকেই শারদীয়া পূজার আবাহন হয় কোচবিহারে। তবে ঐতিহ্যবাহী বড় দেবীবাড়িতে এদিন থেকেই মূলত অর্চনা শুরু হল দুর্গা পুজোর।
আগামী শুক্ল অষ্টমী বা রাধা অষ্টমীর শেষরাতে মদনমোহন বাড়ি থেকে ময়না কাঠ সজ্জিত দেবী মাকে নিয়ে আসা হবে এই বড়দেবী বাড়িতে। এরপর মহাস্নান এবং বিশেষ পুজোর পর এই বড় দেবীরূপী ময়না কাঠটিকে ৩ দিন রাখা হবে হাওয়া খাওয়ার উদ্দেশে। এই ৩ দিন পর তাকে তোলা হবে কাঠামোতে এবং শুরু হবে খড় ও মাটি সহযোগে বড় দেবীর মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণের কাজ। রবিবার গৃহ পূজা সমাপনের পর একথা জানালেন, কোচবিহারের রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। এদিন তিনি বলেন, রাজ আমল থেকে ঐতিহ্য মেনে চলছে এই পুজো পর্ব।
কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী এই বড় দেবীর পুজোর ইতিহাস এই জেলার প্রায় সকলেরই জানা। বড়দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি, দেবী দুর্গার অন্যান্য মূর্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই বড় দেবীর গায়ের রং লাল, এখানে বড় দেবীর বাহন সিংহ নয়, বাঘ এবং বড় দেবীর সঙ্গে থাকেন জয়া এবং বিজয়া। রাজপরিবারের রক্ত নিবেদন না করলে পূর্ণতা পায় না এই বড় দেবীর পুজো। আর তাই দুর্গা পুজোর অষ্টমীতে রাজপরিবারের যে কোনও উত্তরসূরীর শরীর থেকে প্রতিবছরই এক ফোঁটা রক্ত নিবেদন করা হয় এই বড় দেবীকে। এই ঐতিহ্য ও রীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয় এই বড় দেবীর পুজোয়। কথিত আছে, কোচবিহারের মহারাজাদের স্বপ্নাদেশের ভিত্তিতেই দেবী দুর্গার এই বড় দেবী রূপ এবং পুজোর সমস্ত আচার। প্রায় ৫০০ বছর যাবৎ এই ঐতিহ্যই পালণ করে আসছে কোচবিহার। আর এই নিষ্ঠার সঙ্গে বড় দেবী পূজিত হয়ে আসছেন কোচবিহারে।

কোচবিহার বড়দেবী বাড়িতে হচ্ছে গৃহপুজো। ছবি:‌ প্রসেনজিৎ শীল

জনপ্রিয়

Back To Top