পঙ্কজ সরকার, মালদা, ২৮ অক্টোবর- জেলা পুলিশ প্রশাসন থেকে সতর্ক করার পরও কালীপুজোর রাতের শব্দাসুরকে আটকে রাখা গেল না। আতশবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা জানানো হলেও অনেকেই মানলেন না। রাত গড়াতেই শুরু হয় শব্দদৈত্যের দাপট। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে বাজি ফাটানোর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তো কোথাও মানা হয়ইনি, বরং নিষেধের পরোয়া না করে শব্দাসুরের দাপট চলে গোটা রাত ধরে। 
কালীপুজোর রাতে আতসবাজির পোড়ানোর সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা রাত ৮টা থেকে ১০টা। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করে দেদার শব্দবাজি পোড়ানোয় ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল গোটা শহর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে শহর থেকে শহরতলি। শহরের গয়েশপুরের বাসিন্দা বছর সত্তরের ধীরেন মণ্ডল। শব্দবাজির দাপটে সারা রাত জেগে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‌সুপ্রিট কোর্টের শব্দবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু রাত ৯টা থেকে যে হারে শব্দবাজি ফাটল, তাতে কান পাতাই দায় ছিল। রাতে ঘুমোতে পারিনি। চমকে উঠেছি অনেকবার।’‌
 পরিবেশপ্রেমী সুনীল দাস জানান, ‘‌পুলিসের এত ধরপাকড়ের পরও কী করে এত শব্দবাজি এল, তাতেই অবাক হচ্ছি। নিশ্চয় ভিন্ন পথে বিক্রি হয়েছে, তা না হলে সাধারণ মানুষের হাতে আসে কী করে?‌ পুলিসকে আরও সচেতন হতে হবে।’‌ পুলিশ কালীপুজোর আগে থেকেই নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে। কালীপুজোর রাতেও তা বহাল থাকে। ইংরেজবাজার শহরের চিত্তরঞ্জন মার্কেট পাইকারি বাজির বাজার বসে। সেখানে দেদার বিক্রি হয়েছে চকোলেট বোমা, দোদমা। পার্থক্য শুধু এটাই, আগেকার বুড়িমার বোমা নাম পাল্টে ফেলে রাখা হয়েছে ব্ল্যাক ক্যাট। এরকম সব নিষিদ্ধ বাজির নাম পাল্টে বাজারে বিক্রি হচ্ছে দেদার। সোমবারেও বহু জায়াগায় নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি হতে দেখা যায়। লঙ্কা পটকাও মিলেছে দেদার। 

ফানুস–মুহূর্ত। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top