পঙ্কজ সরকার, মালদা, ১৮ নভেম্বর- ‘‌দিদিকে বলো’‌তে জানিয়ে মিলল সরকারি বাস পরিষেবা। হরিশ্চন্দ্রপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল হরিশ্চন্দ্রপুর–‌শিলিগুড়ি বাস পরিষেবার। মাস দুয়েক আগে ‘‌দিদিকে বলো’‌তে জানান বাসিন্দারা। তার পরেই গত ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার অধীনে বাস চলাচল। হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে ভায়া চাঁচল হয়ে বিহারের কিসানগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর হয়ে রোজ যাওয়ার কথা শিলিগুড়ির উদ্দেশে। হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় ছাড়ছে বাস। উল্টো দিকে শিলিগুড়ি থেকে রোজ ৯টায় আরেকটি বাস মালদার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে।
‘‌দিদিকে বলো’‌তে জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাস পরিষেবা চালু, স্বভাবতই খুশি এলাকাবাসী। এবার কলকাতা, বর্ধমান রুটেও বাস পরিষেবা চালুর দাবি রয়েছে। পরে সেটাও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এর আগে ‘‌দিদিকে বলো’‌তে জানিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর–‌সিউড়ি বাস পরিষেবা চালু হয়। কোনও অজ্ঞাত কারণে অতীতে তা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে সিউড়ি পর্যন্ত যোগাযোগ একরকম ব্যাহত হয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নতুন করে ফের তা চালু হয়। 
হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘‌বিগত দিনে রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাস পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হরিশ্চন্দ্রপুর কলকাতার মধ্যে ব্যাহত রয়েছে। এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া দরকার। তাতে সাধারণ মানুষ থেকে রোগী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী সকলের সুবিধে হবে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই দাবিটুকু জানাতে চাই।’‌ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিজয় সিংহ, বারেক খান–রা বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী আমাদের যে উপকার করেছেন, তা ভোলার নয়। সড়কপথে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের হরিশ্চন্দ্রপুরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। উনি আমাদের কষ্টের কথা জানতে পেরেই তার ব্যবস্থা করেছেন।’‌ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর মালদায় আসার কথা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না হরিশ্চন্দ্রপুরবাসী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করে ধন্যবাদ জানাতে চান তাঁরা।

নতুন সরকারি বাস হরিশ্চন্দ্রপুরে। ফাইল ছবি‌

জনপ্রিয়

Back To Top