অলক সরকার, সুনীল চন্দ,শিলিগুড়ি ও রায়গঞ্জ: বর্ষাকাল। কিন্তু বৃষ্টি গায়েব। উল্টে কাঠফাটা রোদে হাঁসফাঁস অবস্থা গোটা উত্তরবঙ্গের। স্বস্তি নেই পাহাড়েও। দার্জিলিঙে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাহাড়ের মানুষও এদিন কড়া রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা নিয়ে পথে বেরিয়েছেন। কার্শিয়াঙে গরমের আঁচ বোঝা গেছে বেশি। উত্তর দিনাজপুরে তো গরমে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। রায়গঞ্জ শহরে গরমে মৃত্যু হয়েছে এক রাজমিস্ত্রির। নাম অবিনাশ রায় (‌৪৪)‌। বাড়ি নিউ উকিলপাড়ায়। জানা গেছে, উত্তর দিনাজপুরে এদিন তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শিলিগুড়িতেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির ওপরে উঠেছিল। মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ শহরে এদিন দুপুরে রাস্তায় মানুষের সংখ্যা কমে যায়। বাসেও উপচে–পড়া যাত্রী দেখা যায়নি। তবে যে পর্যটকেরা পাহাড়ে বেড়াতে গেছেন, তাঁদের অনেকে শুরুতে শীতবস্ত্র পরেই ম্যালে আসেন। বেলা বাড়তেই রোদের তেজ বাড়ে। তখন সেগুলি খুলে ফেলতে হয়। অনেকে কিছুক্ষণ পরেই হোটেলে ফিরে যান। রোদ পড়তে বিকেলের দিকে ফের ম্যালে আসতে দেখা যায়।  
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ অবিনাশ রায় নামে এক রাজমিস্ত্রি রায়গঞ্জের দেবীনগর দেবপুরী এলাকার এক শিক্ষকের বাড়িতে কাজ করছিলেন। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে অসুস্থবোধ করেন তিনি। অস্বাভাবিক ঘামতে শুরু করলে তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আনা হয় রায়গঞ্জ সদর হাসপাতালে। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার টুম্পা মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘‌সানস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে অবিনাশ রায়ের।’‌ অবিনাশ রেখে গেছেন তাঁর স্ত্রী ময়না রায় ও দশম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে সুমিকে। শ্রাবণ মাস পড়লেও রায়গঞ্জে বৃষ্টি নেই। অন্য দিনের চেয়েও বৃহস্পতিবার ছিল প্রচণ্ড কড়া রোদ। বালুরঘাটের মাঝিয়ান কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এদিন তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রিরও বেশি। অন্যদিকে, কালিম্পঙে ২৭ ডিগ্রি, শিলিগুড়িতে ৩৮ ডিগ্রি, জলপাইগুড়িতে ৩৫ ডিগ্রি, মালদায় ৩৬ ডিগ্রি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৩৯ ডিগ্রি, কোচবিহারে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল বলে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রগুলি সূত্রে জানা গেছে। শিলিগুড়িতে এদিন গরমের জন্য দুপুরের দিকে হিলকার্ট রোডেও মানুষের ভিড় কম দেখা গেছে। শেখর সরকার নামে দার্জিলিঙের এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, আমি পাহাড়ে এমন গরম দেখিনি। গত বছরেও এই সময় বৃষ্টি ছিল। এবারে তো বৃষ্টির দেখাই নেই।’‌

দার্জিলিং ম্যালে ছাতা নিয়ে বেরিয়েও ক্লান্ত বাসিন্দারা। ছবি:‌ সঞ্জয় বিশ্বাস

জনপ্রিয়

Back To Top