পঙ্কজ সরকার, মালদা, ৩০ জুলাই- এমনিতেই রুপোলি শস্যের দেখা নেই। তার ওপর চলছে গঙ্গায় বিষ প্রয়োগ। কম পরিশ্রমে পর্যাপ্ত ইলিশের লোভে একশ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবী এমন ঘৃণ্য কাজ করে চলেছেন। অভিযোগ, ফরাক্কার কিছু অসাধু জেলের বিরুদ্ধে। এর ফলে বিস্তৃত এলাকায় ভেসে উঠছে অন্য মাছের সঙ্গে মরা ইলিশও। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালদার মৎজীবীরা। প্রশাসন থেকে তদারকির কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখনও। ফলে গঙ্গাবক্ষে বাধাহীনভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অভিযুক্ত অসাধু মৎজীবীরা। 
    মালদার রুপোলি শস্য বলতে ফরাক্কার ইলিশ। বৈষ্ণবনগর থানার বিরাট সংখ্যক মানুষ মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করে থাকেন। এখানকার গঙ্গার অন্য পাড়ে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা। ওপারের ফরাক্কাঘাট, বেনিয়াগ্রামের মানুষেরাও মাছ ধরার কাজে যুক্ত। অভিযোগ, বেনিয়াগ্রামের কিছু অসাধু জেলে রাতের অন্ধকারে জলে বিষ প্রয়োগ করছেন। মরা মাছ ভেসে উঠলেই তাঁদের পোয়াবারো। বিশেষ করে ইলিশ ভেসে উঠলে তো আর কোনও কথাই নেই। এদিকে, ওই বিষে মরা ইলিশ ছড়িয়ে পড়ছে মালদার বাজারগুলিতে। মানুষের পেটে যাচ্ছে বিষ। জানা গেছে, ফরাক্কা সেতুর কাছে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও সিআরপিএফ-এর চোখে ধুলো দিয়ে রাতের অন্ধকারে চলে মাছ শিকার। এই অভিযোগ অনেকদিনের। এদিকে বেনিয়াগ্রামের দিকে সেতুর কাছে স্রোতও বেশ কম। ফলে বিষ প্রয়োগ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ২০০-‌৩০০ মিটারের মধ্যেই মরা মাছ ভেসে উঠতে থাকে। 
      মালদার মৎস্যজীবীদের মধ্যে উদয় হালদার, কৃষ্ণ হালদার, মনোজ হালদার, সুজন হালদাররা অভিযোগ করে বলেন, ‘‌সমস্যা হচ্ছে, ওদের কুকীর্তির ফল ভুগতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের ওপরই দোষ এসে পড়ছে। অথচ এমন জঘন্য কাজের কথা আমরা ভাবতেই পারি না। মাছই আমাদের মুখের ভাত জোগায়। তার সঙ্গে প্রতারণা আমরা কখনই করতে পারি না। কিছুদিন আগে পরপর ঘটেছিল। প্রশাসন থেকে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি আমরা।’‌‌

এই মরা ইলিশই উঠছে চাষিদের জালে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top