গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ১৭ জুন- ডাক্তার নেই ওয়ার্ডে। গভীর রাতে আনা স‌ঙ্কটাপন্ন এক শিশুকে তাই ভর্তি রাখতে চাননি নার্সরা। ভোররাতে ওয়ার্ডেই মৃত্যু হয় শিশুটির। এই ঘটনায় অভিযোগ তুলে সরব হন শিশুটির বাবা। সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘‌ডাক্তাররা আন্দোলনে রয়েছেন। তাঁরা দেখলে আমার সন্তানের মৃত্যু হত না।’‌ 
যদিও এই ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে গভীর রাতে কোথাও নিয়ে যাওয়ার জায়গা না থাকায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছিল। শিশুটির নাম দিভ্যাংশু মাহালি। বাবা কর্মা মাহালি। ডুয়ার্সের চালসার বাসিন্দা তিনি। কিছুদিন আগে জ্বর হয় শিশুটির। ধরা পড়ে সেপটিসেমিয়া। ব্লক হাসপাতালে দেখিয়ে অবস্থার উন্নতি হয়নি। আরও সঙ্কটাপন্ন হলে আনা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে। শিশুবিভাগে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। 
কর্মা বলেন, ‘‌নার্সরা আমার সন্তানকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় না পেয়ে মেডিক্যালেই রাখি। সকাল ৭টার সময় ওয়ার্ডে এসে দেখি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ওয়ার্ড থেকে জানানো হয়, সকাল ৬টায় ডাক্তার দেখার আগেই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।’‌ ডাক্তার না থাকার জন্যই বিনা চিকিৎসায় তাঁর সন্তানকে হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মা। 
এদিকে, রবিবার রাতেও ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অবস্থায় আড়াই বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়। নাম আয়ুষ বরাইক। বাড়ি বাগডোগরায়। শিশুটির শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। এই মৃত্যুর ঘটনাতেও কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। 

মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে বেরোচ্ছেন বাবা–মা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top