পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি, ১৬ সেপ্টেম্বর- প্রায় দেড় লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ময়নাগুড়ির ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান। ধৃতের নাম বিপুল দাস। সরকারি প্রকল্পের ঠিকা কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ ময়নাগুড়ির ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই প্রধান বিপুল দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে রবিবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি বলেন, ‘‌ময়নাগুড়ির ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিপুল দাসের বিরুদ্ধে গত ১২ তারিখ অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১০০ দিনের কাজ–‌সহ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকা কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২০১৭ সালে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হলে বিপুল দাসের বিরুদ্ধে প্রচুর তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।’‌ 
পুলিশ সুপার জানান, রবিবার গভীর রাতে পুলিশ বাহিনী নিয়ে তিনি নিজে গিয়েই বিপুল দাসকে গ্রেপ্তার করেছেন। সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়েছে অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতাকে। বিপুল দাসের আইনজীবী কল্লোল ঘোষের দাবি, তাঁর মক্কেলকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। রাত আড়াইটার সময় পুলিশের সামনেই ময়নাগুড়ি তৃণমূল ব্লক সভাপতি শিবশঙ্কর দত্ত বিপুল দাসের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও শিবশঙ্কর দত্ত বলেন, ‘‌পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। আমি নিজেও মাঝে বিজেপি করতাম। তখন থেকেই ওই বিজেপি প্রধানের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের ঠিকা কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে চেকের মাধ্যমে কাটমানি নিয়েছিলেন তিনি। আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার করিয়ে দেওয়া বা ভাঙচুর করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে।’‌ এদিকে বিজেপি প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ময়নাগুড়ি এলাকায়। এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে বিজেপি দপ্তরেও। বিজেপি–‌‌র জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক তপন রায় বলেন, ‘‌রাতের অন্ধকারে যেভাবে আমাদের একজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা চক্রান্ত করেই করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার দলীয় দপ্তর খোলার কথা ছিল সেখানে। তার আগেই প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি আমরা।’‌

ধৃত পঞ্চায়েত প্রধান বিপুল দাস।‌ ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top