‌দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার, ৯ ডিসেম্বর- অপরাধ রুখতে মানুষকে সচেতন করতে কোচবিহার পুলিশের নতুন হাতিয়ার যাত্রাপালা। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে অপরাধ মোকাবিলার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার গ্রামেগঞ্জে যাত্রার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই চলছে অপরাধ রুখতে সচেতন করার উদ্যোগ। 
গত ১১ থেকে ২৯ নভেম্বর মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে যাত্রা দেখতে গ্রামীণ মানুষের ভিড় ও উৎসাহ নজরে আসে কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার ডা.‌ সন্তোষ নিম্বালকরের। আর সেখানে থেকেই ভাবনা, পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। গণপিটুনি, এটিএম জালিয়াতি ও বাল্যবিবাহ মোকাবিলা–‌সহ যে কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়ে কোচবিহার জেলা পুলিশ ৪৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯৭টি গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে উদ্যোগী হয়েছে। এই যাত্রাপালাগুলো একমাস ধরে কোচবিহারের বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে ১ ঘণ্টা করে মঞ্চস্থ হবে। কোচবিহার জেলার গ্রামগঞ্জে যাত্রাপালা খুবই জনপ্রিয়। এসপি–র নির্দেশে যাত্রার এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষকে সচেতন করতে ময়দানে নেমে পড়েছে কোচবিহার জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যে কোচবিহার জেলার ১ নম্বর ব্লকের জিরানপুর এলাকাতে এই যাত্রাপালার সূচনা হয়েছে। এর যথেষ্ট ভাল প্রভাব পড়েছে মানুষের মধ্যে। শীতলকুচির ফুলবাড়িতে রবিবার রাতে পুলিশের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চ অপেরার ‘‌ভাঙা ঘরের রাঙা বৌ’‌ যাত্রাপালা দেখতে রীতিমতো ভিড় উপচে পড়ে। 
অনেক আগেই কোচবিহার পুলিশ নিজেদের ফেসবুক পেজ খুলেছে। তাতে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, যেমন পথনিরাপত্তার প্রচার, স্কুল–কলেজে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রোগ্রাম, ট্রাফিক সচেতনতা, ইভটিজিং–‌বিরোধী বার্তা, রক্তদান শিবিরের আয়োজন তুলে ধরা হয় ওই পেজে। আর এবার দুষ্টচক্রের হাতছানি, নেশামুক্তি, পণপ্রথা, ডাইনি, গরুচোর বা ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি ঠেকাতে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় যাত্রাগানকেই বেছে নিয়েছে পুলিশ। কোচবিহার–‌১ ব্লকের জিরানপুরের বাসিন্দা  দীপিকা ভৌমিক রায় বলেন, ‘‌দেখে খুব ভাল লাগল। আরও আগে এই উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল।’‌ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‌খোলামঞ্চে যাত্রা আজও গ্রামীণ এলাকায় সমান জনপ্রিয়। পুলিশের এই উদ্যোগে মানুষের মধ্যে ভাল সাড়া পাওয়া যাবে।’‌ 
জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বালকর বলেন, ‘‌এবার রাসমেলার দিনগুলোতে মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে যাত্রার প্রতি মানুষের একটা অদ্ভুত আকর্ষণ লক্ষ্য করেছি। আর সেখান থেকেই এই পরিকল্পনা। ভাল ফিডব্যাক পাচ্ছি।’‌ 
‘‌নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে মানুষের কাছে অনেক সহজেই পৌঁছনো যায়।’‌ এমনটাই জানিয়েছেন নাট্যপরিচালক দেবলীনা বিশ্বাস। শিক্ষিকা অন্তরা কার্জির কথায়, ‘লাঠি বন্দুক তো আজ খেলনা, কোচবিহার পুলিশ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চাইছে, শুভেচ্ছা থাকল।’‌ সমাজসেবী রাজা বৈদ্য জানান, জনসংযোগই অনেক সমস্যার নিরসন করতে পারে, কোচবিহার পুলিশ সেটাই করছে।

পুলিশের উদ্যোগে যাত্রাপালা। ছবি:‌ প্রসেনজিৎ শীল‌

জনপ্রিয়

Back To Top