অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ২৫ মার্চ- লকডাউনকে কিক মেরে উড়িয়ে দেওয়া মানুষগুলিকে সামাল দিতেই যখন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখন করোনা সতর্কতায় নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত তৈরি করে দেখাল উত্তরবঙ্গের কয়েকটি গ্রাম। রীতিমতো গ্রামের পথে ব্যারিকেড দিয়ে কেউ যেমন বহিরাগত আটকানোর ব্যবস্থা করলেন, আবার কোথাও গ্রামের প্রবেশপথে বেড়া দিয়ে গোটা গ্রামকেই প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। অন্যদিকে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাজারে সোশ্যাল ডিসটেন্সের জন্য পুলিশ কিংবা জনপ্রতিনিধিরা দোকানের সামনে এঁকে দিলেন ‘‌লক্ষ্মণরেখা’‌। আপাতত এই উদ্যোগের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
করোনার প্রধান ওষুধ সোশ্যাল ডিসটেন্স। ঘরবন্দী থাকা। যাতে আক্রান্তের সংস্পর্শ সহজেই এড়ানো যায়। এই কারণেই বিস্তর ক্ষতি মেনেও গোটা দেশে লকডাউন করা হয়েছে। অথচ কিছু অসচেতন অবাধ্য মানুষকে ঘরবন্দী করাই যাচ্ছে না। লাঠি হাতে পুলিশও হিমশিম খাচ্ছেন। ঠিক তখন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া হাপ্তিয়াগছ পঞ্চায়েতের হনুমানগছ গ্রামের একদল যুবক নিজেদের উদ্যোগে গ্রামের রাস্তায় ব্যারিকেড করে দিলেন। ঝুলিয়ে দিলেন প্ল্যাকার্ড। তাতে নানা নির্দেশিকার পাশাপাশি লিখে দিলেন ‘‌বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ’‌। স্বপন কুমার সিংহ নামের এক যুবক জানালেন, ‘‌প্রশাসন বারবার বললেও অনেকেই কথা শুনছেন না। তাই আমাদের নিজের গ্রাম–‌সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নিরাপত্তায় এমনটি করেছি।’‌ একই বক্তব্য শিক্ষক অতুল কুমার সিংহ থেকে রমেন, বিটু, অপুদের। একই রকম ভাবে গ্রামে বহিরাগতদের আটকাচ্ছেন শিলিগুড়ি বিধাননগর মুরলীগঞ্জ এলাকার ভুরিয়াখালি  গ্রামের একদল যুবক। জলপাইগুড়ি জেলার কামারভিটাতেও হুবহু ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শহরে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বাজার এলাকায় ভিড় করছেন মানুষ। চাল–‌ডাল সংগ্রহ করতে গাদাগাদি হয়ে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কোচবিহারে এমন পরিস্থিতি দেখে এগিয়ে আসে পুলিশ। দোকানের সামনে ৫–‌৬ ফুট তফাতে আটা দিয়ে বাউন্ডারি এঁকে দেন। নির্দেশ দেওয়া হয়, ওই বাউন্ডারিতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। শিলিগুড়ির প্রাণকেন্দ্র বিধান মার্কেটে এমনই উদ্যোগ নেন কাউন্সিলর নান্টু পাল। তা যে সবাই মানছেন, তেমন নয়। তবে অনেকটাই দূরত্ব রাখা সম্ভব হয়েছে। মুরলীগঞ্জ বাজারের শীতম পালের মুদিখানা দোকানের সামনে নিজেদের উদ্যোগে এমন বাউন্ডারি করে মানুষকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব দেখেও যদি অন্তত কিছু মানুষ সরকারি নিয়ম মেনে চলেন, তাতেই দেশ অনেকটা বিপদমুক্ত হতে পারবে বলে অনেকেরই ধারণা।

গ্রামে প্রবেশ নিষেধ। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে সেটাই যেন জানিয়ে দিলেন গ্রামের যুবকরা। শিলিগুড়ির মুরলীগঞ্জে। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top