অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ১৮ মার্চ- করোনার জেরে মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের কালোবাজারি রুখতে ময়দানে নামলেন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। বুধবার মালদা শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী এবং অস্থায়ী দোকানগুলিতে তদারকি করেন ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। করোনা আতঙ্কের জেরে মাক্স এবং সেনিটাইজার বিক্রি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল মালদায়। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই তদারকি শুরু করলেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। 
এদিন মালদা শহরের কে জে সান্যাল রোড, মকদমপুর, রাজমহল রোড, রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ, নেতাজি সুভাষ রোড, স্টেশন রোড–সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন ওষুধের দোকানে হাত ধোয়ার স্যানিটাইজার কী দামে বিক্রি হচ্ছে তারও তদারকি করেন অভিযানকারী অফিসাররা। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বাজারে মাস্ক বিক্রিতে কোনওরকম কালোবাজারি করা হচ্ছে কিনা তারও খোঁজখবর নেন অভিযানকারী পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। 
মালদা শহরের অতুল মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন জামাকাপড়ের দোকানে মাস্ক বিক্রি নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছিল। ১০ টাকার মাক্স বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আবার ২০ টাকার মাক্স বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এরকম কালোবাজারির অভিযোগ ওঠায় তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন এবং সতর্ক করা হয়েছে। মাক্স এবং সেনিটাইজার বিক্রির ক্ষেত্রে কোনওরকম কালোবাজারি করা হলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 
গ্রাহকদের অভিযোগ, যে মাস্ক ২০ টাকা দিয়ে পাওয়া যেত, সেগুলি এখন ১০০ টাকা হয়ে গেছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। এর থেকেও বেশি দাম চাইছে অনেক বিক্রেতারা। এমনকী বেশ কিছু দোকানে স্যানিটাইজার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের তদারকি করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
মালদা সদর মহকুমাশাসক সুরেশকুমার রানো জানিয়েছেন, করোনা থেকে সচেতন থাকতে মাস্ক এবং সেনিটাইজার ব্যবহার করা বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। 
মালদা চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, ‘‌করোনা সচেতনতায় মাস্ক এবং স্যানিটাইজার বিক্রি নিয়ে কোনও কালোবাজারির অভিযোগ আমাদের সংগঠনের কাছে আসেনি। তবে আমরা চাইব না কেউ এই ধরনের কাজ করুক। জনসাধারণের স্বার্থে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’‌‌

বিভিন্ন দোকানে নজরদারি চালাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top