অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ২৫ মার্চ- করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জমায়েত ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। রাস্তায় নেমে জমায়েতকারীদের কান ধরে ওঠবস করিয়ে প্রকাশ্যেই শাস্তি দিল জেলা পুলিশ। যেখানে জমায়েত হয়েছে সেখানেই মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্য হয়ে লাঠিপেটা করতে হয়েছে। বাজারহাটে জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ রীতিমতো সতর্ক এবং সচেতন করেছে সাধারণ ক্রেতাদের। কতটা দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে হবে, সে–ব্যাপারে হাতেকলমে বুঝিয়েছেন জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। এদিন মালদা শহরের রথবাড়ি পুরবাজার সংলগ্ন কয়েকটি চায়ের দোকানে ভিড় দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন পুলিশের পদস্থ কর্তারা। এরপরই সেই চায়ের দোকান থেকে কয়েকজনকে রাস্তায় টেনে নিয়ে এসে কান ধরে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ওঠবস করানো হয়। অনেকেই ভুল স্বীকার করেন। আর যেন কেউ এভাবে জটলা না করেন, সে–ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মালদা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথ মোড় এলাকায় এদিন জমজমাটি বাজারের ভিড়ে অভিযান চালাতে হয় পুলিশকর্তাদের। ওই এলাকাতেও বেশ কয়েকটি জায়গায় আড্ডা চলছিল। তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এভাবেই সারা দিন পুলিশের অভিযান চলতে থাকে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী লকডাউন ঘোষণার পরই মালদা শহরের বিভিন্ন মুদির দোকানে উপচে পড়ে আমজনতার ভিড়। চাল, ডাল, আটা, মুড়ি, ডিম, সরষের তেল, আলু, পেঁয়াজ কিনতে হিড়িক পড়ে যায় বিভিন্ন মুদিখানার দোকানে। বহু দোকানিকেই বেচাকেনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এদিকে, বেশ কিছু ব্যবসায়ী এই লকডাউনের সুযোগ নিয়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কালোবাজারি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যেন বাড়তি দাম না নেন, নির্দিষ্ট দামেই জিনিসপত্র বিক্রি করেন, সে আবেদন জানানো হয়েছে। 

রাস্তার মাঝেই কান ধরে ওঠ‌বস। বুধবার। মালদায়। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top