অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ১৮ নভেম্বর- অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে ভুতনি দ্বীপের বাসিন্দাদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতিশ্রুতি মতোই মানিকচক ব্লকের ফুলহার নদীর ওপর ভুতনি সেতু উদ্বোধন হবে মঙ্গলবার। ওই দিন মালদায় প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই জেলার সর্ববৃহৎ এই ব্রিজের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাম জমানা থেকে অবহেলিত ভুতনি দ্বীপের প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের এই সমস্যা দেখেই এগিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর উদ্যোগে শুরু হয় প্রায় তিন কিলোমিটারব্যাপী ভুতনি সেতু তৈরির কাজ। প্রায় দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া ভুতনি সেতুর উদ্বোধন হতে চলেছে। এনিয়ে মানিকচক থানা এবং ভুতনি থানা এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মানিকচকে জনসভায় এসে তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী ফুলহার নদীর ওপর দীর্ঘ এই ভুতনি সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে বামফ্রন্টকে সরিয়ে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তৎপরতা শুরু হয় ভুতনি সেতু তৈরির। সেই সময় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে এই সেতু তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা এই সেতু তৈরির কাজ শুরু হয় সেই সময় থেকে। পরবর্তীতে এই সেতু তৈরির জন্য আরও টাকা বরাদ্দ হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে। অবশেষে ভুতনি সেতু তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর এখন সেটি শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
ফুলহার নদীর মাঝ বরাবর অবস্থিত রয়েছে ভুতনি দ্বীপটি। এই দ্বীপে উত্তর চণ্ডীপুর এবং দক্ষিণ চণ্ডীপুর দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। রাজ্য সরকারের তৎপরতায় ভুতনি থানা গড়ে উঠেছে। তার সঙ্গে তৈরি হয়েছে একাধিক স্কুল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু এই দ্বীপের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে ছিল নদী পথ। যন্ত্রচালিত নৌকায় মানুষকে নদী পারাপার হয়ে চলাচল করতে হত। বাম জমানায় ভুতনি দ্বীপের উন্নয়ন নিয়ে কোনও দিন মাথা ঘামায়নি সেই সরকার। কিন্তু ভুতনি দ্বীপের মানুষের এই সমস্যা সামনে আসতেই তৎপর হয় তৃণমূল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ভুতনি সেতুটি। ভুতনি এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে আমরা নতুন সেতু পেয়েছি। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হবে, সেই এলাকার উন্নয়নও ততটাই দ্রুত হওয়া সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভুতনির লক্ষাধিক মানুষ। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই আমরা ভুতনি সেতু পাচ্ছি। আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।

মানিকচকের ভুতনি ব্রিজ। চলছে প্রস্তুতি। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top