অলক সরকার ও সঞ্জয় বিশ্বাস, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং: অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে ১ লক্ষ গোর্খার নাম বাদ যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা পাহাড় জুড়ে। বিষয়টি নিয়ে পাহাড়বাসীর ক্ষোভের আঁচ পেয়ে প্রেস বিবৃতি দিয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু সিং বিস্ত। গুজব রটানোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজু বিস্তের কথাতেও চুপ থাকতে পারেননি খোদ বিমল গুরুং। অস্বস্তিতে পড়ে তিনিও এনআরসি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এতেই বিজেপি–‌কে চেপে ধরার সুযোগ পেয়ে বিনয় তামাংরা এবারে সরব 
হয়ে উঠেছেন। এদিন বিনয় জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবারই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক করে অসমে প্রতিনিধি দল পাঠাবেন। যাবেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। বিষয়টি নিয়ে যে বিনয়পন্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে যাচ্ছেন, সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন এদিনই। 
এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই ছড়িয়ে পড়ে যে, সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অন্তত ১ লক্ষ গোর্খার নাম। অসমের ঘটনা হলেও, পাহাড়ে এই খবর পৌঁছতে সময় লাগেনি। পরিস্থিতি আঁচ করে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে কিছু দল। কালিম্পঙে এসে অমিত শাহ গোর্খাদের আশ্বস্ত করে বলে গেছেন, এনআরসি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তার পরেও বিমল গুরুং প্রেস বিবৃতি দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‌দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অসমের ভূমিতে সেবা করে আসা এবং সমাজ, অর্থনীতি ও অসমের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী গোর্খাদের এনআরসি থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।’‌ অর্থাৎ, এনআরসি নিয়ে যে খোদ বিমল গুরুংও আহত, সেটা বোঝা যাচ্ছে তাঁর বক্তব্য থেকেই। 
গুরুংরা বিজেপি–‌র কট্টর সমর্থক। ফলে, গুরুংয়ের বিবৃতিকে হাতিয়ার করে বিনয় তামাং এদিন জানিয়েছেন, বিমল গুরুংয়ের বিবৃতি প্রমাণ করেছে যে, বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত এবং বিধায়ক নীরজ জিম্বাদের দেওয়া বক্তব্য সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর। জাতীয় সুরক্ষার নামে গোর্খাদের বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। আমরা গোটা বিষয়ের ওপর নজর রাখছি।
তবে যেটা প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে, তা হল, শিগগির অসমে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। অসমের গোর্খা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে, সম্ভবত বিনয় তামাং নিজেই একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কলকাতায় যাবেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য। তারপর পাহাড় থেকে বিজেপি সরকারের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা হবে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top