সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং: বিমল গুরুং ও রোশন গিরিকে ‘‌প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’‌ ঘোষণা করল দার্জিলিং আদালত। এই ঘোষণার জেরে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে পুলিশ এদের গ্রেপ্তার করতে পারবে, কোনওরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই। জেলা পুলিশের তরফে পোস্টার আকারে এই নোটিস সাঁটানো হচ্ছে পাহাড় জুড়ে। সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানাতে এবং সচেতন করতেই এই পোস্টারিং।  
ইতিমধ্যে বিমল গুরুং ও রোশন গিরি–‌সহ বেশ কয়েকজন একাধিক মামলার আসামি। এঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলাও রয়েছে। ফলে, উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েও পাহাড়ে পা রাখতে পারছেন না তাঁরা। ২০১৭ থেকে তাই দুজনে আত্মগোপন করে আছেন। লোকসভা নির্বাচন ও দার্জিলিং বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রচার করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েও কোনও কাজ হয়নি। এখনও পালিয়েই থাকতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে রোশন গিরির অস্তিত্ব দিল্লিতে পাওয়া গেলেও, তৎক্ষণাৎ ওয়ারেন্ট ইস্যু না করতে পারায় পুলিশের পক্ষেও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এবারে আদালতের ঘোষণায় রাজ্য পুলিশের সুবিধা হল। এখন আর গুরুং–রোশনদের গ্রেপ্তার করতে আলাদা করে ওয়ারেন্টের প্রয়োজন 
হবে না।
বিষয়টি প্রচার হতেই থমথমে হয়ে গেছে পাহাড়। ক্রমশ বুঝতে পারছেন, একে ৪৭ বা আইইডি বিস্ফোরণের মতো অপরাধ যাঁরা করেছেন, তাঁদের পুলিশ সহজে ছাড়বে না।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গণেশ ছেত্রি এবং আরও কয়েকজন নাগাল্যান্ডে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন। এই গণেশ ছেত্রি হলেন বিমল গুরুংয়ের গাড়ির চালক। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর দার্জিলিঙেও এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে গুরুংয়ের বৈঠক হয়েছিল।
এসবের প্রমাণ সংগ্রহ করে ফেলেছে পুলিশ। এছাড়া পুলবাজার থেকে যে ৩৯৫টি জিলেটিন স্টিক চুরি হয়েছিল, সেটা কারা, কখন, কীভাবে চুরি করেছিল, তার অনেক তথ্যই পুলিসের হাতের মুঠোয়। মূলত, এই জিলেটিন স্টিক দিয়েই যে ২০১৭ সালে নাগাড়ে বিস্ফোরণ করা হয়েছে, তারও প্রমাণ মিলেছে। সেই সঙ্গে অমিতাভ মালিক খুন, একে ৪৭ নিয়ে হামলা, নেপালের মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ–‌সহ অনেক অপরাধের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। সে কারণেই গুরুং-‌গিরির বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি হয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরেও বিমল-‌রোশন কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এবারে তাই ‘‌প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’‌ ঘোষণায় পুলিশের অনেকটাই সুবিধে হল। দার্জিলিং থানার আইসি তীর্থসারথি নাথ জানিয়েছেন, ‘‌বিমল গুরুং, রোশন গিরি–সহ আরও কয়েকজনকে ‘‌প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করেছে দার্জিলিঙের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত। যেহেতু এঁদের বিরুদ্ধে প্রচুর মামলা, কিন্তু এখনও আত্মসমর্পণ করেননি, তাই এই নোটিস ওঁদের বাড়িতে সাঁটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্য অনেক জায়গাতেও সাঁটানো হয়েছে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top