অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: ভূতের আতঙ্ক দূর করতে আদিবাসী গ্রাম পরিদর্শনে গেলেন পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। পুরাতন মালদা থানার আদিবাসী অধ্যুষিত ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুদেবপুরে গিয়ে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন। এরপর গ্রামবাসীদের সচেতন করতে গিয়ে জানান, ভূত বলে কিছু নেই, সবই কুসংস্কার। তবে এলাকায় গিয়ে এই ঘটনার পেছনে থাকা ওই আদিবাসী গ্রামের এক মাতব্বরের নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। যে নিজেকে আদিবাসীদের কাছে জানগুরু হিসাবে পরিচয় দিয়ে ভূত আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ওই অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করেছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ।
শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ পুরাতন মালদা ব্লকের যুগ্ম নির্বাহী আধিকারিক রানাদিত্য বিশ্বাস, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অমিতাভ মন্ডল, পুরাতন মালদা থানার পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত কর্তারা আদিবাসী অধ্যুসিত বাসুদেবপুর গ্রামে যান। এদিন পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে ছিলেন আশা কর্মীরাও। তবে এদিন প্রশাসনের কর্তারা যাওয়ার পরও বাসুদেবপুর গ্রামের আরও দুটি পরিবারের সদস্যরা ভূত আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। অনেক বুঝিয়েও তাঁদের আটকে রাখতে পারেননি তদারকিতে যাওয়া প্রশাসনের কর্তারা। পরে অবশ্য পুরাতন মালদা থানার পুলিশ গিয়ে অন্যান্য গ্রামবাসীদের বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ার আবেদন করেন। এমনকী রাতে ওই গ্রামে পুলিশ টহলদারি চালাবে বলেও জানানো হয়। এরপরই কিছু আদিবাসী মানুষ আশ্বস্ত হয়েছেন।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অমিতাভ মন্ডল জানান, গ্রামে পরিশ্রুত পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কীট পতঙ্গের কামড়ে ও নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দূষিত জল থেকে অথবা কোনও কীট পতঙ্গের কামড়ে পেটে ব্যথা, বমি, জ্বর হয়ে থাকতে পারে। সঠিক সময়ের মধ্যে চিকিৎসা না করালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এই ধরনের কিছু ঘটনা হয়তো ঘটে থাকতে পারে।
যুগ্ম বিডিও রানাদিত্য বিশ্বাস জানান, গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভূতের আতঙ্ক নিয়ে যে কুসংস্কার ছড়িয়েছে সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট গ্রামের মানুষদের সচেতন করা হচ্ছে। গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়েছে । সার্বিক কোনও সমস্যা থাকলে সেটিও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিন গ্রামের তদারকিতে যাওয়া পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, বাসুদেবপুর গ্রামে এক মাসের ব্যবধানে হঠাৎ অসুস্থ এবং অকাল মৃত্যু হয়েছে পর পর পাঁচজনের। আর তা নিয়েই ভূত আতঙ্ক ছড়িয়েছে আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। এদিন সকালে বেশ কয়েকটি পরিবার নিজেদের বাড়ির জিনিসপত্র গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ব্লক প্রশাসনের কর্তারা তাঁদের সচেতন করেন এবং বোঝান  কিন্তু তার মধ্যেও দুটি পরিবারকে আটকে রাখা যায়নি। তবে গ্রামবাসীদের একাংশ জানিয়েছে যে, তাঁদের গ্রামের এক জানগুরু বলেছে, এই গ্রামে থাকলেই ভূতে সকলের রক্ত খাবে। তাই প্রাণে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়াই ভাল। এই বিষয়টি রটে যাওয়ার পরই গ্রাম ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায় আদিবাসীদের মধ্যে। যে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার করেছে, তার খোঁজ শুরু করেছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ ‌।
ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লখিরাম হাঁসদা বলেন, বাসুদেবপুর গ্রামে ৩০ টি পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারগুলি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁদের ঘরে তালা ঝুলছে। আশা করছি প্রশাসন সমাধানের চেষ্টা করবে।

জনপ্রিয়

Back To Top