শুভঙ্কর পাল,শিলিগুড়ি: বাগডোগরা দম্পতি খুন কাণ্ডে জেরার সময়ে পরস্পর বিরোধী তথ্য দিয়ে পুলিসকে নাজেহাল করে ছাড়ছে অভিযুক্ত প্রেমিক যুগল। কখনও যৌন হেনস্থার জন্য খুন করার তত্ত্ব, আবার কখনও ক্যান্সারের চিকিৎসার টাকা পেতেই খুন করা হয়েছে বলে দাবি ধৃতদের। আবার কখনও খুনের জন্য ভূমিকা তার প্রেমিকের দিকে আঙুল তুললেও অস্বীকার করছে প্রেমিক সঞ্জয়। তদন্তে অতিষ্ঠ হয়ে কখনও পুলিস আধিকারিকের প্রতি মারমুখি হয়ে উঠছে সঞ্জয়। যদিও এমনটা তদন্তের মোড় ঘোরানোর পরিকল্পিত চেষ্টা বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।  
গত শনিবার মাঝরাতে বাগডোগরার সুকান্তনগরে বাড়িতে খুন হন ব্যবসায়ী অজয় কুশওয়াহা ও তাঁর স্ত্রী মীনা কুশওয়াহা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অজয়বাবুর ক্যাটারিংয়ের কর্মী ভূমিকা শেওয়া ও তাঁর প্রেমিক সঞ্জয় তামাংকে গ্রেপ্তার করে বাগডোগরা থানা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পারে অজয়বাবুর বাড়িতে থাকা কয়েক লক্ষ টাকা লুঠ করার জন্যই অজয়বাবু ও তঁার স্ত্রীকে খুন করেছে দু’‌জন। তবে বুধবার পুলিস হেপাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভূমিকা ও সঞ্জয় দাবি করে, ভূমিকাকে যৌন হেনস্থা করতেন অজয় কুশওয়াহা। ঘটনার রাতে ভূমিকা অজয়বাবু ও তাঁর স্ত্রীকে বডি ম্যাসাজও করে দিয়েছিল। সেসময় ভূমিকার শরীরে হাতও দেয় অজয়। এতেই ক্ষিপ্ত ছিল সঞ্জয়। আবার ভূমিকার ক্যান্সারের দাবিও সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও পুলিস ভূমিকার সহকর্মীদের থেকে জানতে পেরেছে অজয় কুশওয়াহা চরিত্রের দোষ ছিল না। আবার ভূমিকার অসুস্থতা সংক্রান্ত কোনও নথিও এখনও পুলিস পায়নি। ফলে ধৃতদের থেকে পাওয়া কোন তথ্য সত্য?‌ তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা। খুনের কারণও নিয়ে ফের একবার ধন্দ্বে পুলিস। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ডিসিপি তরুণ হালদার দাবি করেন, ‘‌টাকার জন্য খুন করেছে ধৃতরা’‌। ফলে বুধবার পাওয়া নতুন তথ্যে কিছুটা বিভ্রান্ত পুলিসও। 
ধৃতদের ১০ দিনের পুলিস হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে টানা জেরা হতেই পুলিসকে প্রথমে অসহযোগিতা করতে শুরু করে দু’‌জনই। নানা সময় নানা কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়। যে কারণে এদিন দুপুরে পুলিস সিদ্ধান্ত নেয় টানা জেরা করা হবে দু’‌জনকে। মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হয়। 
ভূমিকা বলে, ‘সঞ্জয় খুন করেছে। যৌন হেনস্থার কথা শুনে রেগে গিয়েই বাড়িতে ঢুকে দু’‌জনকে খুন করে সে।’‌ এদিন সঞ্জয় জানায়, রড জাতীয় যে ভারী বস্তু দিয়ে খুন করা হয়েছে। তা ঘটনার পর নদীতে ফেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার সে দাবি করছিল, ভূমিকার ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য টাকা পেতেই খুন করেছে। ফলে ভূমিকার আদৌ ক্যান্সার ছিল নাকি তদন্তের মোড় ঘোরাতে মিথ্যে বলা হচ্ছে তা জানতে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিস। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিসের। এদিন ডিসিপি তরুণ হালদার বলেন, ‘‌২ জনকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’‌

জনপ্রিয়

Back To Top