পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: বাংলার প্রথম এনআরসি–আতঙ্গে মৃত ময়নাগুড়ির অন্নদা রায়ের বাড়িতে গেলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাগুড়ির বড়কামাত এলাকায় আসেন তিনি। কথা বলেন অন্নদা রায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এদিন মৃত অন্নদা রায়ের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘‌বিজেপি ‌এনআরসি–র নামে যেভাবে আতঙ্ক তৈরি করছে, তাতে অসহায় মানুষ নিজেদের জীবন দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে অন্নদা রায়ের বাড়িতে এসেছি আমি। মমতা ব্যানার্জি যতদিন থাকবেন পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেবেন না। হিন্দুদের হয়ে যারা অসমে বড় বড় কথা বলেছিল সেখানে এখন ১২ লক্ষ হিন্দু বিতাড়িত হচ্ছে। বিজেপি মানুষকে মিথ্যে কথা বলে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা ও ভোটের ফায়দা নিয়েছে। এখন তারাই সেই মানুষদের হত্যা করছে। আমরা মানুষের কাছে উন্নয়নের নামে ভোট চেয়েছিলাম। কিন্তু মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। মানুষ ওদের ভোট দিয়ে একবার ভুল করেছিল। তবে এ রাজ্যের মানুষ আর একটাও ভোট দেবে না তাদের।’‌ এদিন অন্নদা রায় স্মরণে ময়নাগুড়ির ভোটপট্টিতে একটি বিশাল সভাও করে তৃণমূল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এছাড়া বক্তব্য পেশ করেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী, যুব সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জি প্রমুখ। ছিলেন বিজয়চন্দ্র বর্মন, উত্তরা বর্মন, বিধায়ক খগেশ্বর রায়, মিতালি রায়, অনন্তদেব অধিকারী, বুলু চিকবরাইক–সহ বিভিন্ন নেতানেত্রীরা। অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘‌বিজেপি কখনও কোনও মানুষের ভাল করেছে এটা কেউ কখনও বলতে পারবে না। বিজেপি–‌র ভোটের রাজনীতির জন্য এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যের মোট ৯ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। জলপাইগুড়ির মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়েছিল বিজেপি। তাঁদের ভোটের রাজনীতি ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলার মাটিতে এন‌আরসি–র প্রথম শহিদ অন্নদা রায়কে। ধূপগুড়ির শ্যামল রায়ও এক‌ই কারণে আত্মহত্যা করেছেন। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েতের সাব্বির আলিও এন‌আরসি–আতঙ্কে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তরতাজা মানুষগুলোর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি।’‌ মন্ত্রী জানান, অসমে যে পরিবারের ৭ জন দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখন এনআরসি–‌র ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছে। ১২ লক্ষ হিন্দু সেখানে ডিটেনশন ক্যাম্পে আছেন। এর নামই বিজেপি। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের সদস্যদেরও এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি–‌র হাজার হাজার টাকা আছে। বিজেপি–‌র রাষ্ট্রশক্তি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মমতা ব্যানার্জি আছে। রাজ্যে যেখানে যেখানে ভোটার লিস্টের কাজ চলছে, আপনারা সকলে গিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলুন। যেখানে কোনও প্রয়োজন পড়লে আমাদের দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, তারাই আপনাদের সহায়তা করবে। এনআরসি নিয়ে কাউকে আতঙ্কিত হতে বারণ করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয়

Back To Top