শুভঙ্কর পাল, শিলিগুড়ি, ২৩ জুলাই- ‘‌আমা কাহা ছ?‌’(‌‌মা কোথায়?‌‌)‌‌‌‌। কুশওয়াহা দম্পতি খুন হওয়ার পর প্রতিবেশীদের এটাই জিজ্ঞেস করে চলেছে তাঁদের সন্তান ভিভান। রবিবার সকাল থেকেই বাবা–‌‌মাকে না পেয়ে কান্না শুরু করে দেয় সে। রাতে ঘুম হয়নি। সোমবার অসু্স্থ হয়ে পড়লে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। সকাল থেকে বাগডোগরার বিহার মোড়ের কাছে ওই চিকিৎসকের চেম্বারেই ছিল খুদে ভিভান। তার আদরের বাবা–‌‌মাকে কাছে না পেয়ে অঝোরে কেঁদেই চলেছে সে। মা–‌‌বাবাকে খুন করা হয়েছে। তাঁরা আর বেঁেচ নেই। এ কথা ছোট্ট ফুলের মতো শিশুটিকে বলার মতো সাহস যেন কারও কাছেই নেই। ঘটনার পর দিদাও সামলাতে পারছেন না ছোট্ট ভিভানকে। মৃত দম্পতির কয়েক মাসের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে। দিদার বাড়িতেই রয়েছে সে। সেখানেই পরিবারের অন্যরা মিলে দেখভাল করছেন তার। ঘটনার দিন রাতে মীনাদেবীর পাশ থেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় ভিভানকে উদ্ধার করে পুলিস। তার পোশাকের বহু জায়গায় রক্তের দাগ ছিল। ঘটনার পর পুলিস তার সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু পুলিসকে কিছুই জানাতে পারেনি সে। রাতে টিভি দেখে মায়ে‌র সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ে বলে  জানিয়েছে ভিভান। তবে এই ঘটনায় দুই শিশুর কী হবে, তা নিয়ে অনেকেই নানা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মা–‌‌বাবার অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশীরা দুই শিশুর দেখভালে কোনও খামতি রাখছেন না। মাঝেমধ্যে পুলিসও এসে কথা বলছে ভিভানের সঙ্গে। ভিভানের কোনও অসুবিধে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন বাগডোগরা থানার ওসি দীপাঞ্জন দাসও। ‌

বাবার সঙ্গে খুদে ভিভান। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top