আজকালের প্রতিবেদন: সাইকারবাড়িতে ডাইনি রহস্য সন্ধানে যুক্তিবাদী সমিতি। ঘটনা জম্পুই এলাকার ডিসি এম রিচার্ড জংয়ে। ৯ আগস্ট ফোন করেন কমলপুর যুক্তিবাদী সংগঠনে। তিনি প্রথম সাইকারবাড়ির ডাইনি ঘটনার খবর জানান। পুলিশ–প্রশাসন থেকে তখনও ডাইনি ঘটনার কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। ১৩ আগস্ট ফোন করে একটি পত্রিকার সাংবাদিক জানালেন, কমলপুর থানায় ফোন করে এ বিষয়ে কিছু জানা যাচ্ছে না। যুক্তিবাদীরা হন্যে হয়ে এলাকা থেকে খবর নেন। জানা যায়, কমলপুর সাইকারবাড়ির ডার্লং মা ও মেয়ে ডাইনি অপবাদের শিকার। ৭ আগস্ট পূর্বপরিকল্পিত সঙ্ঘটিত নৃশংস আক্রমণে গুরুতর জখম হন তাঁরা। সদ্য বিধবা  জোহেসিঙ্গি ডার্লং (‌৩২)‌ জানালেন, সেদিন দুপুরে যখন গ্রামের সবাই জমে ছিল তখন তাকে ও তার নাবালিকা মেয়ে রুমরুয়াতি (‌১৩)–কে ঘরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা বেধড়ক লাথি ঘুসি মারতে থাকে। তিনি বলেন, একমাস আগে মৃত স্বামী জরেমা ডার্লংয়ের  ১২ কানি রাবার, সুপারি ও পান বাগান দখলের লোভে তাদের গ্রামছাড়া করতে অন্যথায় মেরে ফেলতে এই আক্রমণ। তিনি জানান, আক্রমণকারীরা হলেন লালসিঙ্গি ডার্লং (‌৬০)‌, তার ছোট ভাই বুয়ারা ডার্লং, বড় ছেলে অংযবা ডার্লং (‌২৮)‌, ছোট ছেলে ফলদা ডার্লং, লালসিঙ্গির বড় দেবর রোইথেলা ডার্লং ও ছোট দেবর লালরিঙ্গা ডার্লং (‌২৬)‌। নির্যাতিতারা গ্রাম ছেড়ে যাবে বলে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে জুম থেকে সবাই এলে তখনকার মতো তারা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়। ৭ ও ১০ বছরের দুটি ছেলে রয়েছে জোহেসিঙ্গির। খবরটা ফোনে অনেক জায়গায় চলে যায়। ৮ আগস্ট পুলিশ তাদের উদ্ধার করে কমলপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। ৯ আগস্ট কুলাই হাসপাতালে তাদের রেফার করা হয়। ১২ আগস্ট তাদের সুচিকিৎসার জন্য ডাঃ অনুপ দেবনাথের সঙ্গে কথা বলে যুক্তিবাদীরা সংবাদমাধ্যমে খবর দেন। পয়সার অভাবে সঠিক ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা না করতে পারায় তারা ১৪ আগস্ট দুরাইছড়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসে। ১৫ আগস্ট যুক্তিবাদীরা কুলাই হাসপাতাল থেকে আক্রান্ত মা ও মেয়ের রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। ১৬ আগস্ট সকালে যুক্তিবাদী ও হিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিজ্ঞান মঞ্চের এক প্রতিনিধিদল সাইকারবাড়ি গ্রাম ও বাড়িঘর পরিদর্শন করে। তাঁরা এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন, সেখানকার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা লক্ষ্য করেন, এলাকার জনগণ প্রায় সবাই ডাইনি প্রথা বিশ্বাস করেন। স্থানীয় নুনদানি ডার্লং জানান, কারও ওপর যাতে ডাইনি আত্মা ভর না করে সেজন্য তারা নিয়মিত গির্জায় প্রার্থনা করেন। থাঙ্গা ডার্লং জানান, গ্রামের কিছু শিশুর অসুখ না কমার অজুহাতে এই ডাইনি ঘটনার সূত্রপাত। যুক্তিবাদীরা পর্যবেক্ষণ করেন এখানকার মানোন্নয়নে অনেক পিছিয়ে তারা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব রয়েছে অঞ্চলটিতে। বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ওষুধ স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে দেওয়া এছাড়াও পানীয় জলের আরও ভাল ব্যবস্থার প্রয়োজন। প্রয়োজন সরকারি উন্নত শিক্ষার সম্প্রসারণ। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস–বিরোধী বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চার প্রয়োজন এখানে। তাঁরা দাবি করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুসংস্কারমুক্ত রাখতে হবে। মন্ত্রী–আমলাদের অন্ধবিশ্বাসে উৎসাহ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ডাইনি প্রথার সঙ্গে যুক্ত গুন্ডাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। যুক্তিবাদী প্রতিনিধিদলে ছিলেন অনুকূল দেববর্মা, অসীম দাস, স্বপন শীলশর্মা, রতন দাস, দুলাল ঘোষ প্রমুখ। বর্তমানে আক্রান্ত মা ও মেয়ে যুক্তিবাদীদের পর্যবেক্ষণে কমলপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ১৮ আগস্ট আক্রান্ত জোহেসিঙ্গি ডার্লং কমলপুর থানার অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top