আজকালের প্রতিবেদন- ‘বিপ্লবদা’র নামে সামাজিক গণমাধ্যমে কটাক্ষ করায় বরখাস্ত হলেন ত্রিপুরার তরুণ চিকিৎসক। আগরতলা মেডিক্যাল কলেজ ও জিবি পন্থ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ কৌশিক চক্রবর্তীকে বরখাস্ত করা হয় সোমবার। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে। বলা হয়েছে, সরকারি চাকুরে হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর নামে সম্মানহানিকর মন্তব্য করে চাকরির শর্ত ভঙ্গ করেছেন ডাঃ কৌশিক। বরখাস্তের পাশাপাশি তাঁকে বিনা অনুমতিতে আগরতলা না ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
 ২ আগস্ট রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অবর সচিব শো‌কজ করেন কৌশিক চক্রবর্তীকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারি চাকরি করেও প্রশাসনের প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সামাজিক গণমাধ্যমে মন্তব্য করার। ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে কৌশিক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, সহকারী অধ্যাপককে শোকজ করার অধিকার অবর সচিবের আদৌ আছে কি না। সেইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্টগুলি সম্পর্কেও জানতে চান। ৩১ আগস্ট ডিরেক্টর তাঁর করা তিনটি পোস্টের উল্লেখ করে ফের শোকজ করেন। ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় তাঁর নামে পোস্ট করা দুটি টুইট ও একটি ফেসবুক বার্তা। প্রথমটিতে তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করেন। দ্বিতীয়টিতে লেখেন, ‘প্রিয় বিপ্লবদা, উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলার জন্য কোনও নোবেল প্রাইজ নেই। তাই একটা সম্মাননীয় পদকে এভাবে সারা দেশে হাসির খোরাক না বানিয়ে এবার ক্ষেমা দিন। অনেক সংগ্রাম ও বলিদানের মাধ্যমে গড়া এই নতুন সরকারের উপর ত্রিপুরার মানুষের অনেক আশা। সবাইকে আশাহত করবেন না।’ আর ফেসবুক পোস্টটি ছিল, ‘ডাক্তাররা রক্তের অপচয় করছে না তো— এই ধরনের ফালতু প্রশ্নে জল ঢেলে দেয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সব ডাক্তারদের তরফ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’ উল্লেখ্য, ত্রিপুরার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখন বিপ্লব দেব নিজেই।
১১ সেপ্টেম্বর শোকজের জবাব দিতে গিয়ে নিজের মন্তব্য অস্বীকার করার বদলে ডাঃ কৌশিক জানান,‌ তিনি সরকারি কর্মী হিসাবে নন, একজন মুক্ত মানুষ হিসাবে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তাই বিষয়টিকে ‘ক্লোজ্‌ড চ্যাপ্টার’ বলে ঘোষণার আর্জি জানান তিনি। কিন্তু সোমবার অবর সচিব তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের নোটিস জারি করেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে তাঁকে বরখাস্ত করা হলেও আগরতলা ছাড়ার ওপর জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এই ঘটনার পর ডাঃ কৌশিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও  পাওয়া যায়নি। 

জনপ্রিয়

Back To Top