রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি: সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে ‘‌একলা চলো’‌ নীতি নিচ্ছে তৃণমূল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি এবং এনপিআর ইস্যুতে সংসদের দুই কক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় কংগ্রেসের সঙ্গে না গিয়ে পৃথক কৌশল নিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। রাজ্য বাম–‌‌কংগ্রেস অঘোষিত জোট যেভাবে বিজেপি–‌‌র পরিবর্তে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তৃণমূলকে আক্রমণ করে চলেছে, তৃণমূলের সংসদীয় রণকৌশল তারই পরিণতি।
তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে সপা, বসপা, ডিএমকে এবং শিবসেনার মতো দলগুলিও। সূত্রের খবর, এবারই প্রথম বিজেপি ও সরকার পক্ষকে কোণঠাসা করতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেছে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা এবং তেলেঙ্গানার টিআরএস। তৃণমূলের এক সাংসদের কথায়, ‘বিজেপি বিরোধিতায় ‌মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর দল তৃণমূল একাই একশো। নোট বাতিল থেকে ক্যা, প্রতিটি ইস্যুতেই সবার আগে বিরোধিতার সুর চড়িয়েছেন তিনিই। তাই সংসদে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তৃণমূলকে কংগ্রেসের ওপর ভরসা করতে হবে না। নিজেদের মতো কৌশল তৈরি করা হবে।’‌ তবে, এতে বিরোধী শিবিরে ভাঙন অথবা বিজেপি–‌‌র সুবিধা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন ওই সাংসদ। গত ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর ডাকা বিরোধী শিবিরের বৈঠক বয়কট করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতার অনুপস্থিতির খবরে বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছিল ডিএমকে, শিবসেনা, সপা এবং বসপা। ওই আঞ্চলিক দলগুলিও কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি। এবার বাজেট অধিবেশনেও কংগ্রেসকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল। ক্যা, এনআরসি এবং এনপিআর–‌‌সহ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘‌জনবিরোধী’‌ সমস্ত পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করতে নিজেদের মতো কৌশল তৈরি করছেন দলের নেতা সুদীপ ব্যানার্জি ও ডেরেক ও’‌ব্রায়েন। ডেরেক বলেছেন, ‘‌অধিবেশন শুরুর আগে দলের রণকৌশল ঠিক করতে দলনেত্রী ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’‌ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, এনপিআর ইস্যুতে বিরোধিতার জেরে এবার বাজেট অধিবেশনে বিশেষ কোনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ৩১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অধিবেশন। সেদিন সেন্ট্রাল হলে যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তার আগে নিয়মমাফিক ৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। অধিবেশন চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
দশম ভোটার দিবস এবং নির্বাচন কমিশনের ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে এদিন এক সভার আয়োজন করেছিল কমিশন। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দেশের ৭টি জাতীয় দলকেই। কিন্তু, একমাত্র তৃণমূল ছাড়া আর কোনও দলের সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন না। দলের তরফে ছিলেন ডেরেক ও’‌ব্রায়েন এবং প্রতিমা মণ্ডল। ডেরেক বলেছেন, ‘‌নানা ইস্যুতে কমিশনের ভূমিকার সবচেয়ে বেশি নিন্দা করে তৃণমূল। কিন্তু, মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর দল সৌজন্য দেখাতে জানেন।’‌ অনুষ্ঠানে তৃণমূল সাংসদরা ‘‌আমরা সবাই নাগরিক’‌ স্লোগানের উল্লেখ করেছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top