সংবাদ সংস্থা, রঁাচি: ঝাড়খণ্ডের যুবক তবরেজ আনসারির হত্যাকাণ্ডে ১৩ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ফিরিয়ে আনল রাজ্য পুলিশ। নতুন মেডিক্যাল রিপোর্ট পেয়েই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করেছে। ১১ জন আগেই খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। এবার আরও দু’জন। সব মিলিয়ে এই মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। 
তবরেজের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসে ১০ সেপ্টেম্বর। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তবরেজের। রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা খুনের অভিযোগ বাতিল করে দেয় পুলিশ। প্রশ্ন ওঠে, কে খুন করল তবরেজকে?‌ শুরু হয় শোরগোল। খুনের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের এক কর্মী পিটিআই–‌কে জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তবরেজ আনসারির, প্রথম মেডিক্যাল রিপোর্টে তা খুব স্পষ্ট নয়। ফলে দ্বিতীয় বার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হয় এমজিএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ডের কাছে। চিকিৎসকদের বোর্ডের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে:‌ ১)‌ মজবুত, ভেঁাতা কোনও জিনিস দিয়ে আঘাত করায় হাড় ভেঙে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, ২)‌ হাড় ভাঙা, হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমে যাওয়া এবং অন্যান্য অঙ্গ রক্তশূন্য হয়ে যাওয়ার কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তবরেজ। এর পরই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা করে পুলিশ।
প্রথম চার্জশিট প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ড পুলিশের বক্তব্য,‌ মৃত্যুর কারণ উল্লেখ আছে ভিসেরা রিপোর্টে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের অভিযোগ আনার জন্য রয়েছে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ। দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের রিপোর্টে স্পষ্ট, আঘাত আর হৃদরোগই তঁার মৃত্যুর কারণ।
ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুন। বন্ধুদের সঙ্গে সরাইকিলা–খরসওয়ানের ধাতকিদিহ গ্রামে গিয়েছিলেন তবরেজ। সেখানে উন্মত্ত জনতা মোটরসাইকেল–‌চোর সন্দেহে পোস্টে বেঁধে পেটায় তঁাকে। ‘‌জয় শ্রীরাম’‌, ‘‌জয় হনুমান’‌ বলতে বাধ্য করে। মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাত ঘণ্টা ধরে পেটানোর পর তঁাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় নিগ্রহকারীরা। পুলিশও চুরির অভিযোগে তঁাকে গ্রেপ্তার করে। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, হঁাটাচলা করতে সক্ষম তবরেজ। চার দিন পর জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তঁাকে মৃত ঘোষণা করেন সেখানকার চিকিৎসকেরা।
তবরেজ–‌খুনের তদন্তের জন্য সরাইকিলা–খরসওয়ানের ডেপুটি কমিশনার আনজানেয়ুল্লু ডোডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম গড়া হয়। জুলাই মাসে তারা রিপোর্ট দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। মাথার খুলির আঘাত পরীক্ষা করেনি চিকিৎসকেরা।’‌‌

যখন পেটানো হচ্ছে তবরেজকে। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top